টগর রাজ মিশু
‘রাঙামাটি জেলার করোনা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে রাঙামাটির সিভিল সার্জন বলেছেন, রাঙামাটিতে করোনা সংক্রমণের হার অন্যান্য জেলা তুলনায় কিছুটা কম রয়েছে। গত ২৯ মার্চ থেকে গতকাল ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল ৯৪ জনের করোনা পরীক্ষা করে ৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং জেলায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ছিল ৭.৪৫%, যা আমাদের জন্য কিছুটা আশাব্যঞ্জক। কিন্তু শনাক্তের হার কম বলে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে আমাদের উদাসীন হলে চলবে না।
করোনা টিকার ২য় ডোজ গ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন ডা: বিপাশ খীসা বলেন, আগামী ৮ এপ্রিল থেকে রাঙামাটিতে করোনা টিকার ২য় ডোজ প্রয়োগ শুরু হবে। ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের টিকা গ্রহণের ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
রবিবার (৪ মার্চ) বিকাল ৩ ঘটিকায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
একই সভায় রাঙামাটির মানুষকে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে এবং বাংলাদেশকে করোনামুক্ত দেশ হিসেবে রুপান্তরে সহায়তা করতে আগামীকাল থেকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন মাঠে নামবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আপনাদের জন্য আমরা মাঠে আছি, আপনারা ঘরে থাকুন। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে জরুরি সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
সভার শুরুতে জেলা প্রশাসক ৫ এপ্রিল হতে শুরু হতে যাওয়া লকডাউন উপলক্ষে সরকার কতৃক ঘোষিত ১১ দফা নির্দেশনা পড়ে শোনান এবং ব্যাখ্যা করেন। এসময় তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, সরকার কতৃক ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউন রাঙামাটিতে কঠোরভাবে পালন করা হবে। করোনা বিপর্যয় সামাল দিতে আমাদের সবাইকে ধৈর্য্যশীল হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। তিনি রাঙামাটি শহরের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম সিএনজি বন্ধ রাখার জন্য পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন এবং হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিকদের অনলাইনে খাবার বিক্রি করার ব্যাপারে জোর দেন।
সভায় রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ব্যবসায়িক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাস-লঞ্চ মালিক সমিতিরি নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
