নাইমুল হক সাব্বির বলেন, ‘অবসরের পর বাবা বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সড়ক উন্নয়নকাজে যুক্ত ছিলেন। অপহরণের পর কেএনএফের জিম্মায় থাকা অবস্থায় বাবার সঙ্গে মিনিটখানেকের জন্য কথা হয়েছে আমাদের। এখন আমরা খুব ভয়ে আছি। যাঁদের অধীনে বাবা কাজ করতেন, তাঁরা আমাদের আশ্বস্ত করলেও কী ঘটছে আমরা কেউ তা জানি না।’এদিকে গতকাল আনোয়ারুল হকের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, তাঁর ভীতসন্ত্রস্ত স্ত্রী সানজিদা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আত্মীয়স্বজন ওই বাসায় গিয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ছোট বোন হেলেনা বিলাপ করে কাঁদছেন।
আলোয়ারুলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি থাকতেন সদর উপজেলার শোলমারা এলাকায়। গত ১৫ মার্চ তিনিসহ আরো কয়েকজনকে অপহরণ করে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। ফেসবুক পেজে অপহরণের দায় স্বীকার করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পোস্ট দেওয়া হয়। কম্বিং অপারেশনে আটক ব্যক্তিদের কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া না হলে আনোয়ারকেও ছাড়া হবে না বলে পোস্টে জানানো হয়।
অপহরণের পর ১০ দিন পার হলেও আনোয়ারুল হক এখনো ছাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আনোয়ারের মা ফাতেমা বানু ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে আবেদন জানিয়েছেন সরকারের কাছে।আনোয়ারুল হকের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতকে পড়ছেন। বড় মেয়ে নাসরিন হক নিশার বিয়ে হলেও বাবার বাসায় থাকেন। মেজো মেয়ে তাহমিনা হক তিশা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর ছোট মেয়ে তাইবা হকের বয়স ছয় বছর।
বড় মেয়ে নাসরিন হক নিশা বলেন, ‘যেকোনো কিছুর বিনিময়ে আমরা বাবাকে ফেরত চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুতি, আমার বাবাকে যেন ফিরিয়ে আনা হয়।’
( খবর ‘কালেরকন্ঠ’র)