মিশু মল্লিক
মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেক ভ্যালীর কাংখিত টুরিস্ট গন্তব্য ‘হেলিপ্যাড’ পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তাজনিত কারণেই এখানে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সাথে এর জন্য কিছু পর্যটকের অপর্যটকসুলভ আচরনকেও দুষছেন স্থানীয় প্রশাসন। হেলিপ্যাড বন্ধ করে দেয়াতে হতাশা প্রকাশ করছেন সাজেক বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা। সাজেক গেছেন,অথচ হেলিপ্যাডে উঠে ছবি তোলেননি, এমন পর্যটক বিরল। দৃষ্টিনন্দন এই স্থানটিতে আর প্রবেশ করা যাবে না জেনে হতাশ পর্যটকরা।
সাজেকে এটিই একমাত্র জায়গা যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই উপভোগের সুযোগ পান পর্যটকরা। এই হেলিপ্যাডের চারপাশে অনেকগুলো রিসোর্ট আছে। হেলিপ্যাডে দাঁড়ালে সূর্যোদয়-সূযাস্তের পাশাপাশি উপভোগ করার সুযোগ হয় বিশাল পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি। যেন মনে হয় মেঘের দল হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
সাজেক হেলিপ্যাডে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাজেকে অনেক রিসোর্ট মালিকরা।

মেঘপুঞ্জি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক পুষ্প চাকমা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে হেলিপ্যাডের আশেপাশে কাটাতাঁরের বেড়া নির্মাণ করতে দেখেছিলাম। আজ সকালে জানলাম আজ থেকে হেলিপ্যাডে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সেনাবাহিনী। অনেক পর্যটক মন খারাপ করছেন হেলিপ্যাডে উঠতে না পেরে।
রুংরাং রিসোর্ট কটেজের স্বত্তাধিকারী রেদওয়ান চৌধুরী বলেন, আজ থেকে হেলিপ্যাডে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে কতৃপক্ষ। চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রথমত নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া পর্যটকরা জায়গাটা খুব বেশি নোংরা করে ফেলেন, তাই হয়তো কতৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা প্ল্যান করে এসেছিলাম হেলিপ্যাড থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করবো। কিন্তু প্রশাসনের এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে আমরা অবাক। ছবি তোলার জন্যও হেলিপ্যাড দারুণ একটা জায়গা ছিল।

আরেক পর্যটক উম্মে সায়মা তানিয়া বলেন, আসলে পর্যটকদের কাছে হেলিপ্যাড একটি আকর্ষণীয় স্পট। কিন্তু সেখানে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করে দেয়াতে আসলে একটু হতাশা কাজ করছে। অবশ্য এর দায় কিছুটা পর্যটকদের উপরও বর্তায়। অনেক পর্যটকের দায়িত্বহীন আচরণের দায়ও আছে এর পেছনে।
এই ব্যাপারে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, আসলে পর্যটকরা যারা হেলিপ্যাডে যান তারা হেলিপ্যাডের পরিবেশের সৌন্দর্য্য রক্ষার ব্যাপারে সচেতন নন। কেউ উচ্চশব্দে গান বাজান, অনেকের নেশাদ্রব্য গ্রহণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পর্যটকদের জন্য এটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
