নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ এম আব্দুল আলীর ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ আব্দুল আলীর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে শহীদ আব্দুল আলীর স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্মৃতিস্তম্ভে দাঁড়িয়ে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) শিল্পী রাণী রায়সহ জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ এম আবদুল আলীর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৭০-এর ২০ নভেম্বর রাঙামাটি মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এম আবদুল আলী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি রাঙামাটির ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। জেলার প্রশাসনিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সীমান্তের ওপাড়ে চলে গেলেও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আবদুল আলী যাননি। ১৯৭১সালের ১৬ এপ্রিল সীমান্ত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে রাঙামাটি আসলে ডিসি বাংলো ঘাটে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। ১২দিন তাঁর উপর নির্মম নির্যাতন চালায় পাকিস্তানি হায়েনারা। তাঁকে জীপের পিছনে বেঁধে শহরে ঘুরানো হয়। ২৭এপ্রিল তাঁকে কেটে টুকরো করে লাশ বস্তাবন্দী করে কাপ্তাই হ্রদ ডুবিয়ে দেয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁর নামে শহরের পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং মাঠ সংলগ্ন স্থানে স্থানে শহীদ বেদী করা হয়। এছাড়াও শহরের রিজার্ভ বাজারে তাঁর নামে একটি স্কুলের নামকরণ করা হয়। ২০১৫ সালে সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেল এই শহীদের জীবনগ্রন্থ প্রকাশ করেন। এরপর সর্বত্র এই শহীদের অবদান সম্পর্কে বেশ সাড়া পড়ে যায়। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অসামান্য অবদান সরকারের দৃষ্টিতে পড়ে। ফলে ২০১৬ সরকার এই মহান বীরকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে। আর এটিই তিন পার্বত্য জেলায় প্রথম স্বাধীনতা পদক।
