এ যেনো বিয়ের আসর,পাত্র এবং পাত্রী’র স্বজনরা হাজির,বাজছে ঢাকবাদ্যি,উপস্থিত আমন্ত্রিতরাও, কিন্তু খোঁজ নেই পাত্র-পাত্রীর ! বহু শোনা, প্রবাদের মতোই- ‘যার বিয়া তার খবর নাই, পাড়াপড়শীর ঘুম নাই!’ রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনকয়েক পরেও বদলায়নি দেশের প্রধান দুই দলের প্রার্থীতা নিয়ে ‘রহস্য’ ! যেনো আলোআঁধারির ‘কানামাছি খেলা’য় মজেছেন দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ! কিন্তু অপেক্ষার তর যে সইছে না আপামর জনতার,যারা ‘বিয়ের আসর’র গুরুত্বপূর্ণ ‘মেহমান’ও ! শহর ছাড়িয়ে দুর পাহাড়,সর্বত্রই এখন মূল আলোচনা,কে হচ্ছেন প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থী !
রাঙামাটি আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে দলীয় নেতৃত্বের কাছে ‘ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক অর্জন’র বায়োডাটা জমা দিয়েছিলেন ১১ জন নেতা। যাদের মধ্যে আলোচিত ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়’ যেমন আছেন,তেমনি আছেন অনালোচিত ‘একাদশের বাইরের খেলোয়াড়’ও। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘এদের সবার নামই কেন্দ্রে জমা দেয়া’র কথা জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি জানালেও দায়িত্বশীল নানান সূত্র,নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছে,কেন্দ্রে আলোচনায় আছেন মাত্র দুইজন ! এরা হলেন বর্তমান মেয়র ও জেলা যুবলীগ সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী এবং দুইবারের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। সম্ভবত এই দুইজনের’ই একজন শেষাবধি নৌকার মাঝি হচ্ছেন। তবে ‘নিশ্চিত’ কোন তথ্য জানাচ্ছেন না আওয়ামীলীগ নেতারা। ‘রাজনীতির হাডুডু খেলা’য় দুই নেতার অনুসারিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কাদাছোড়াছুড়ি’ আর ‘গুনকীর্তন’ শুরু করলেও একেবারে চুপচাপ দুই শীর্ষ নেতা ‘দাদা’ দীপংকর তালুকদার এবং ‘বদ্দা’ মুছা মাতব্বর ! যাদের সাক্ষরেই মূলত: চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম কেন্দ্রের কাছে জমা পড়েছে !
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে মুছা মাতব্বর সংক্ষেপে বলে দিলেন-‘ দেখা যাক, কি হয় !’
অন্যদিকে আওয়ামীলীগের চেয়েও যেনো বহুকাঠি সরেস বিএনপি। প্রায় দেড়দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ পেতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৩ জন নেতা ! যাদের সাথে পৃথক এবং আনুষ্ঠানিক,দুইভাবেই কথা বলেছে দলটি। ছিলো ‘আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার’র মতো আয়োজনও। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া ‘সুপার ফাইভ’,যা মূলতঃ পৌর বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা ও জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার সমন্বয়ে গঠিত,তারাও কোন সমন্বিত সিদ্ধান্ত না নিয়ে পৃথক একটি মনোনয়ন বোর্ড গঠন করেছে,যাতে যুক্ত হয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুশোধন দেওয়ান আগা এবং যুগ্ম সম্পাদক আলী বাবর। তারা প্রার্থীদের সাথেও কথা বলেছেন সরাসরি,সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এরপরই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত প্রায়,জানানো হবে শীঘ্রই। বিএনপির দায়িত্বশীল সুত্রসমূহ জানিয়েছেন, সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূট্টো,জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন এবং জেলা যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিলের মধ্যে,যেকোন একজন হবে দলটির মেয়র প্রার্থী।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোঃ শাহ আলম জানিয়েছেন, ‘আমরা সাক্ষাৎকার শেষ করেছি,শীঘ্রই আমরা নিজেরাও বসব। আশা করছি দু’তিনদিনের মধ্যেই প্রার্থীতা ঘোষণা করতে পারব।’
এদিকে প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেও আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থিত তৃতীয় কোন প্রার্থীর কথা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে,রাঙামাটির প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির সমর্থনে প্রার্থী হতে পারেন কেউ একজন। কিন্তু বিষয়টি এখনই পরিষ্কার নয়,এনিয়ে মুখও খুলছেন না কেউই।
রাঙামাটি পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত মেয়র পদে স্বতন্ত্র হিসেবে ১ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২ জন এবং সাধারন কাউন্সিলর পদে ২৫ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
নির্বাচন কার্যালয় সুত্র জানাচ্ছে, রাঙামাটি পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের ৬২ হাজার ৮৮৪ জন ভোটার আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে আসবেন,নিজেদের নগরপিতা এবং কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য।
