তহিদুর রুবেল, পানছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগী। ম্যালেরিয়াও দেখা দিয়েছে। উপজেলায় ১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ৫ জন ম্যালেরিয়া ও ১৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কঠোর লকডাউন ও স্বাস্থ্য বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চলাফেরাও বাড়ছে। এদিকে নমুনা দেওয়ার ২০ মিনিটেই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট মিলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সেবায় দ্রুততা ও সহজে রিপোর্ট পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সেবা নেওয়া মানুষজন।
গত কয়েকদিন যাবৎ জ্বর, কাঁশি, গলা ও হাত, পা ব্যাথায় ভুগছেন পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষ রায়। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের গ্রাহক সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম করোনা পরীক্ষার জন্য বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে। ভীড় হবে, সিরিয়াল দিতে হবে। কিন্তু তা না৷ বিশৃঙ্খলা-ভোগান্তি নেই। আমরা ৪ জন নমুনা দিয়েছিলাম। আমি ২০ মিনিটেই রিপোর্ট পেয়েছি। অন্যান্যরাও দ্রুত রিপোর্ট পেয়েছেন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) সলিট চাকমার সঙ্গে। তিনি জানান, যদি কারো করোনার বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নিই। করোনার দুই ধরনের পরীক্ষা রয়েছে। ল্যাবরেটরি কিট পরীক্ষায় আধা ঘন্টার মধ্যেই রিপোর্ট সম্ভব। আরটি-পিসিআর উচ্চতর পরীক্ষার জন্য নমুনা চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। ওখানকার রিপোর্ট পেতে ৫ দিন সময় লাগে।
করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা বলেন, প্রতিদিনই ২-১জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে। আজকেও (বৃহস্পতিবার) ২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে একজন তবলছড়ির। বর্তমানে পানছড়িতে ১৩ জন করোনা পজিটিভ। এখন মানুষজন করোনা পরীক্ষা করতে চান না কিন্তু করা উচিত। কারো জ্বর, সর্দিকাশি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে, দেরি না করে করোনা নমুনা দিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। পরীক্ষা না করলেও, অন্তত বাসায় আলাদা থাকতে হবে। আক্রান্ত পরিবারের সদস্যগণের সহযোগিতা, সচেতনতা অধিক জরুরি। বাড়ির বাইরে যততত্র ঘোরাফেরা করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, পরিবার ও সমাজকে করোনা থেকে বাঁচাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়া উপায় নেই। এছাড়া এখন বর্ষা মৌসুম। কভিড-১৯ এর সাথে ম্যালেরিয়াও দেখা দিয়েছে। গত মাস ও এ মাসে ৫ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে সুস্থ আছেন। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছি। এখন কিছুটা কম। ম্যালেরিয়া খুব প্রাণঘাতী রোগ। হাসপাতাল ও ব্রাকে ম্যালেরিয়া পরীক্ষা এবং চিকিৎসা এখন সহজলভ্য। তাই প্রত্যেক জ্বরের রোগী অবশ্যই ম্যালেরিয়া পরীক্ষাটিও করে নিবেন।
