তহিদুর রহমান রুবেল, পানছড়ি
কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাতেও ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীগণ শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন কেন্দ্রে টিকাদান শুরু করেন। টিকাদান ক্যাম্পেইনের জন্য প্রথম দিনে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রতিটির ১নং ওয়ার্ড থেকে ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সীমান্তবর্তী ১নং লোগাং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে হারুবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২নং চেঙ্গী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে শ্রীকুন্তিমাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩নং পানছড়ি সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে খরানসিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং লতিবান ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে কারিগড় পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫ নং উল্টাছড়ি ইউনিয়নের ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হয়।
তবে ভোর থেকে আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যার কারণে প্রত্যন্ত এলাকার অনেকেই টিকা নিতে পারেননি।
৫নং উল্টাছড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতিটি নাগরিককে টিকা নিতে পারছেন। টিকাদান কার্যক্রমে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগ।
নাতির সাথে টিকা নিতে আসা বয়োবৃদ্ধ রাবেয়া খাতুন (৬৯) বলেন, নাতির লগে টিকা নিতে আইছি। এইরম কাছে অওয়ায় ভালা হইছে। আমেনা বেগম (৭৪) বলেন, হাসপাতালে অইলে, অতো কষ্ট কইরা টিকা লইতে গেলামনা-অইলে। এনো আইছে বইলা নিছি। সরকার একটা বালা কাম করছে।
সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে লকডাউনে মানুষজন ঘর থেকে বিনা প্রয়োজনে খুব বের হচ্ছেন না। যানবাহনও তেমন একটা চলছে না। এই সময় টিকা নিতে হাসপাতালে যাওয়াটা অনেক কষ্টকর ব্যাপার। ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি একটি মহৎ উদ্যোগ। আশাকরি সবাই টিকা গ্রহণ করবেন।
একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নেয়ামত উল্লাহ রিপন বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা করছি। মানুষজনের বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এই কেন্দ্রে ৬০০ লোকের টিকা দেওয়ার কথা। বেলা ১টা নাগাদ ২৫০জন টিকা নিয়েছেন। বৃষ্টি না হলে টিকা নিতে আরো বেশি লোকজন আসতো। গর্ভবতী মা ও সন্তানকে স্তন্যদুগ্ধ দেন, এমন মা টিকা নিতে পারবেন না।”
‘টিকা গ্রহণে যোগ্য সবাই রেজিস্ট্রেশন করুন, টিকা নিন, করোনা থেকে বাঁচুন’ এমন আহবান জানিয়ে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা বলেন, পাঁচটি ইউনিয়নে একযোগে টিকাদান শুরু হয়েছে। ৩টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও, প্রয়োজনে ৪টা পর্যন্ত চলবে। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় অনেকে টিকা নিতে আসতে পারেননি। নির্ধারিত দিনে নির্ধারিত কেন্দ্রে যারা টিকা নিতে পারেননি, তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নিতে পারবেন।
এছাড়াও কোন এলাকার জনপ্রতিনিধি বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা সমাজসেবী কেউ উদ্যোগ নিতে পারেন। এ জন্য কোন এলাকায় ৫০-২০০ বা বেশি রেজিস্ট্রেশন করে থাকলে আমার বা আমার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করলে, আমরা টিম নিয়ে ঐ এলাকায় ভ্যাকসিন দিতে যাব। করোনা থেকে বাঁচতে চাইলে টিকার কোন বিকল্প নেই। সরকার এ বছরের মধ্যে দেশের বৃহত্তম( ৮০%) জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন দিয়ে সুরক্ষা দিতে চায়।
