জয়নাল আবেদীন, কাউখালী
সব ঠিকঠাক থাকলে ২২ মার্চ (বুধবার) দুঃখ ঘুচবে আরও জমি ও ঘরহীন ৪১ পরিবারের। ৪১ পরিবার পাবে দুই শতাংশ সরকারি জমির উপর দুই কক্ষবিশিষ্ট ওয়ালসেড, পাকা ল্যাট্রিন, রান্না ঘরসহ দুই শতক জমি। চিন্তামুক্ত ভাবে কাটবে ঘোর বর্ষা। নিশ্চিন্তে ঘুম হবে এই ঘরে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে সরকার প্রধান শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প ২ এর আওতায় চতুর্থ পর্যায়ে ২২ মার্চ সারাদেশে ভূমি ও গৃহহীন আরও ৩৯৩৬৫ হাজার পরিবার পাবে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা। তারই অংশ হিসেবে রাঙামাটির কাউখালীতে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা পাচ্ছে আরও ৪১ পরিবার। ২২মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থ ধাপে নির্মিত ঘরগুলো এক যোগে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জনাযায়- উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য ৪১টি ঘর নির্মাণকাজ ইতিমেধ্য শেষ হয়েছে। নির্বাচিত ও যাচাই-বাছাই করা ভূমি-গৃহহীনদের নামে এসব ঘরের দলিলও ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ঘাগড়া ইউনিয়নে ১৪টি, কলমপতি ইউনিয়নে ১১টি, বেতবুনিয়া ইউনিয়নে ১১টি ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নে ৫টি পরিবার’কে ঘরের চাবি ও দলিল তুলে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আরও ১০৯টি পরিবার পেয়েছে তাদের স্বপ্নের ঘর।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সাদিয়া নুরিয়া জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ নির্মাণ স্থলে গিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ প্রকল্পের কাজ তদারকি করেছি। উপজেলা মনিটরিং টিমও নিয়মিত মনিটরিং করেছে। টেকসই ও উন্নত মানের মালামাল ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে। ২২মার্চ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৪১টি ঘর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে গৃহের ও ভূমির দলিল ভূমিহীনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। স্বপ্নের ঘর পাবে আরও ৪১ পরিবার।
জমিসহ আধা-পাকা ঘর পেয়ে খুশি ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারগুলো।গৃহহীন বিধবা, নিঃসন্তান নারীপরিবার যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিলো না। এমন পরিবারগুলো ২ শতাংশ জমিসহ পাকা ঘর পেয়ে আজ তারা অনেক খুশি। উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দূর্গম শামুকছড়ির বাসিন্দা সুইজাইউ মারমা ও স্ত্রী আরেমা মারমা তারা দু’জনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। থাকতেন দূর্গম পাহাড়ের ডালে জরাজীর্ণ একটি বেড়ার ঘরে। ছিলোনা বিদ্যুৎ ও পানি। এখন তারা মূল সড়কের পাশে দু’শতক জায়গা পেয়েছেন সাথে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরও। তাদের আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই।এতেই তারা বেজায় খুশি। উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের রবিউল হোসেন দিনমুজুরীতে কাজ সংসার চালান। তিন সন্তানের মধ্যে একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী। দু’কক্ষের একটি পাকা ঘর নির্মাণ করা তার জন্য ছিলো স্বপ্নের মতো। আজ তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি স্বপরিবারে বসবাস শুরু করেছেন সে ঘরে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাওয়া ঘাগড়া ইউনিয়নের বিধবা নারী বাসন্তী মজুমদার প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে জরাজীর্ন দুই কক্ষের একটিবেড়ার ঘরে পলেথীন টাঙ্গিয়ে থাকতেন।এখন তিনি একটি আধা পাকা ঘরের মালিক। এতেই তিনি বেজায় খুশি, তাইতো কান্নাজড়িত কন্ঠেদু’হাত উঁচিয়ে প্রার্থনা করলেনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।
