জিয়াউল জিয়া ॥
আমরা খুবই দরিদ্র। ঠিকমতো তিন বেলা খেতে পারতাম না। বিয়ের পর থেকেই স্বামী সন্তান নিয়ে ভাঙ্গা ঘরেই জীবনের বড় একটি সময় পার করেছি। ঝড় বৃষ্টি এলেই ঘরবাড়ি ছেড়ে পাশের স্কুলে ঠাঁই নিতে হতো। আর প্রতিদিন ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করতাম, যাতে আমাদের এই অবস্থার পরিবর্তন হয়। ভগবান বুদ্ধ আমার প্রার্থনা শুনেছেন। প্রাধানমন্ত্রীর আমাদের একটি নতুন ঘর দিয়েছেন। এভাবেই মনের কথাগুলো বলছিলেন রাঙামাটি শহরের সাপছড়ি ইউনিয়নের শুকরছড়ি গ্রামের বাসিন্দা মালা চাকমা। আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আনন্দে আপ্লুত তিনি।
মালা চাকমা আরও বলেন, আমার জায়গা ছিলো না। জায়গা কিনে ঘর করার মতো কোন সামর্থই ছিলো না। এখন জায়গা জমি সবই রয়েছে। যেদিন ঘরের কাজ শুরু হয়েছে। সেদিন মন্দিরে ঘিয়ে প্রার্থনা করেছি। প্রার্থনায় বলেছি প্রধানমন্ত্রীর দীঘায়ু বৃদ্ধি করে দিক। সকল বিপদ থেকে ভগাবন বুদ্ধ তাকে নিরাপদ রাখুক। আবার যেন, ক্ষমতায় গিয়ে আরও মানুষের সেবা করতে পারে।
সাপছড়ি ২নং ওয়ার্ডের আরেক বাসিন্দা মো. রহিম বলেন, আমার একটা ছেলে প্রতিবিন্ধী। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাটছিলো। ছেলের সুবাধে একটি ঘর পেয়েছি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার আমাদের কর্মসংস্থানের জন্য সহায়তা করেছেন। এখন পরিবার নিয়ে খুবই ভালো আছি।
রাঙামাটি বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে শুভাষীশ চাকমা ও অর্পণা চাকমা বলেন, আমরা মাছ শিকার ও কিছু কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। একটি ঘরের স্বপ্ন সব সময় দেখতাম কিন্তু আর্থিক অবস্থার কারনে কখনো পুরন করা সম্ভব ছিলো না। বৃদ্ধ বয়সে এসে সেই স্বপ্না বাস্তবায়ন করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।

রাঙামাটি বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমর চাকমা বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকাই দুর্গম। এখানে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ঘর নির্মাণ কঠিন ছিলো। তাও আমরা শতভাগ চেষ্টা করেছি সঠিকভাবে কাজ করার। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এখন পর্যন্ত ২০টি, এর আগে আরও ৪০টি নতুন ঘর পেয়েছে আমার ইউনিয়নের মানুষ। আরও কিছু ঘর পাওয়া গেলে কিছু মানুষ গৃহহীন মানুষ আশ্রয় পাবে।
রাঙামাটি সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়রাম্যান প্রবীন চাকমা ভাগ্য বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পরও এমন সুন্দর ঘর আমার নাই। প্রধানমন্ত্রী এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অত্র এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করছেন। এসব মানুষ আজীবন প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন।
রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা বিনতে আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই দুর্গম এলাকায় কাজ করা কঠিন। নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছানো ছিলো চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাজের শতভাগ গুনগতমান ঠিক রেখে ঘরগুলো সুবিধাভোগীদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
এভাবে রাঙামাটিতে ৪র্থ পর্যায়ে ৪৩৯টি নতুন ঘর নির্মাণ শেষ হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রী আগামী ২২ মার্চ ভিডিও কনফারিন্সিং এর মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হবে। সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
জেলা প্রশাসক সংবাদ সমেম্মলনের জানান, আশ্রয়ন-২ এর অধীনে প্রধানমন্ত্রীর ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে বিশ^জুড়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। রাঙামাটিতে ৪র্থ পর্যায়ে ৪৩৯ গৃহ ও ভূমিহীন পরিরার পাচ্ছেন নতুন ঘর। দূর্গমতার কারণে এসব ঘর নির্মানে বেশ চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়েছে। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাজের গুণগতমান ঠিক রেখে নির্ধিরিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হয়েছে। এই পর্যন্ত রাঙামাটিতে ১ হাজার ৯২৬ টি নির্মাণ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহায়নের সঙ্গে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, শিক্ষা, পেশা ভিত্তিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম যুক্ত হয়েছে।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস. এম. ফেরদৌস, সার্বিক মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা বিনতে আমিন ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
