ইয়াছিন রানা সোহেল
পঞ্চম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ছাড়পত্র দিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। ‘টাকার বিনিময়ে’ অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পঞ্চম শ্রেণির ছাড়পত্র দিয়েছেন এমন অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বরকল উপজেলার ইসলামপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফ একই উপজেলার দক্ষিণ বরুনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছানাউল্যা’র বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, ইসলামপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২১ সালের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া চার শিক্ষার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ভুয়া ছাড়পত্র দেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ছানাউল্যা। উক্ত চার শিক্ষার্থী হলো, আলামিন, আহমতুল্লা আল হাসান, মোঃ আশিক ও ফারজানা। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, উক্ত চার শিক্ষার্থী ২০২০ সালে ইসলামপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। তারা ২০২১ সালে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং বই উৎসবে যথারীতি বইও গ্রহণ করে। কিন্তু চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি উক্ত চার শিক্ষার্থীকে পঞ্চম শ্রেণির ছাড়পত্র দেন দক্ষিণ বরুনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছানাউল্যা। ছাড়পত্র নিয়ে ওই চার শিক্ষার্থী একই উপজেলার বিলছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিলছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজ্ঞ চাকমা জানান, ‘চলতি বছর বিভিন্ন স্কুলের ৫৭জন শিক্ষার্থী আমার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ছাড়পত্র দেখে আমরা ভর্তি করিয়েছি। পরে জানতে পারলাম দক্ষিণ বরুনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভুয়া ছাড়পত্র নিয়ে তিন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়েছে। এটা মুলত দক্ষিণ বরুনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছানাউল্যা নিয়ম বহির্ভুতভাবে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দিয়েছেন। ইসলামপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করলে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারি। এছাড়াও দক্ষিণ বরুনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছানাউল্যা আমার কাছে এসে উক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করার জন্য কাকুতিমিনতি করে। ভর্তি রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেও পরে তাদের ভর্তি বাতিল করি।’
ইসলামপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফ জানান, ‘মোট চারজন শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেয়। তদ্মধ্যে দুই জনের কাগজপত্র পেয়েছি এবং প্রমানস্বরূপ অভিযোগের সাথে তাদের উক্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করি। পরে অবশ্য চারজনের কাগজপত্র হাতে পেয়েছি।’
অভিযোগের ব্যাপারে দক্ষিণ বরুনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছানাউল্যা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিভাবকদের অনুরোধের কারণেই তিনি চারজন শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। ছাড়পত্রের জন্য কত টাকা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন-‘আমি টাকা নিতে চাইনি, তারা জোর করে দিয়েছেন।’ প্রতি ছাড়পত্রের জন্য ‘তিনশত টাকা করে নিয়েছেন’ বলেও স্বীকার করেন তিনি। স্কুলে না পড়েও সরকারি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশের ছাড়পত্র দেয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন-‘এ ধরনের কোন নিয়ম নেই’। তবে তিনি যে ‘নিয়মবহির্ভুত কাজ করেছেন’ তাও স্বীকার করেন।
বরকল উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল হান্নান পাটোয়ারীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বরকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মনজুরুল হক জানান, বিষয়টা সম্পর্কে জানা ছিল না। তবে বিষয়টা তদন্ত করে দেখব এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
