রাঙামাটি শহরে গত কদিন ধরে সবচে আলোচিত বিষয় হলো রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসির সাথে শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ‘দুর্ব্যবহার’র অভিযোগে সৃষ্ট জটিলতা,শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং এনিয়ে তৈরি হওয়া নানা সংকট। শিক্ষার্থীদের হাতে অবরূদ্ধ প্রধান শিক্ষক ভিসি’র কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রথম দিন পাড় পেলেও তার অপসারণ দাবিতে দ্বিতীয় দিনও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। যদিও তারা স্মারকলিপি প্রদান শেষে ভিসির অনুরোধ আর ডিসি’র আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। কিন্তু জটিলতা কি আসলেই শেষ হলো ?
এই জটিলতা সহজেই সমাধান হওয়ার নয়। আপাতত চাপা দেয়া সম্ভব হলেও পরবর্তীতে বারবার সেটা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী,এলাকাবাসি,স্থানীয়দের অভিযোগের অন্ত নেই। এর আগেও তিনি নানা কারণেই আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন,একাধিক ঘটনায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও নানা অভিযোগ আনছেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগই উঠুক না কেনো,তার যথাযথ তন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া উচিত এবং সেটাই ন্যায় সঙ্গত।
তবে একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস সড়িয়ে নেয়ার পর ছাত্রাবাসটিও স্থানান্তর জরুরী বলে মনে করি আমরা। মাঝেরবস্তির মত ছোট একটি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস উপযুক্ত নয়। যেহেতু মূল ক্যাম্পাসে চলে গেছে একাডেমিক কার্যক্রম,সেহেতু ছাত্রাবাস পুরনো জায়গায় পড়ে থাকার কোন মানেই নেই। নিজেদের বিশাল জায়গা ফেলে রেখে অন্যের জায়গায় ভাড়া থাকার মধ্যে গর্ব নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নেই দ্রুত এই ছাত্রাবাস মূল ক্যাম্পাসের কাছাকাছি সড়িয়ে নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা। তাতে হয়ত সব কূলই রক্ষা পাবে।
