রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে লড়ছেন আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতা,যারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে সংগঠনটির বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করছেন।
২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে আছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোসলেহউদ্দি ইমন। ভোটের মাঠেও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রার্থী প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং জয়ী হওয়ার জন্য প্রানান্ত প্রচেষ্টাই চালাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার জন্য ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অনেকেই কাজও করছে। সাথে আওয়ামীলীগের সহযোগি বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাও আছেন।
৩ নং ওয়ার্ডে লড়ছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বিপ্লব দাশ মাইকেল। এর আগেও নির্বাচন করেছিলেন তরুন এই নেতা। এবার বিজয়ী হওয়ার জন্য শুরু থেকেই মাঠে আছেন তিনি। তবে তার জন্য কঠিন হবে বিজয়ী হওয়া। কারণ এই ওয়ার্ডেই লড়ছেন আরেক আওয়ামীলীগ নেতা ও বর্তমান কাউন্সিলর পুলক দে। স্থানীয় তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই প্রার্থী করোনাকালের ভূমিকার কারণে এলাকাবাসির বাড়তি সহমর্মিতাও পাবেন।
৪ নং ওয়ার্ডে ভোটযুদ্ধে আছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক আলমগীর । তরুন এই আওয়ামীলীগ নেতা ভোটযুদ্ধে বিজয়ী হতে ছুটছেন ওয়ার্ডের এইপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন,চাইছেন একটিবারের জন্য সুযোগ। তবলছড়ি বাজারকেন্দ্রিক ভোটব্যাংক যদি ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেন,তবে তিনিও হবেন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী।
৭ নং ওয়ার্ডে লড়ছেন তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা ও পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ জামালউদ্দিন। বর্তমান পৌর পরিষদের অন্যতম সক্রিয় এই কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করেছেন মেয়র প্যানেলেও। করোনাকালে মানুষের পাশে থেকে নিজেকে প্রমাণ করায় পাচ্ছেন ভোটারদের বাড়তি মনোযোগ ও সমর্থনও। বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে বেশ শক্তভাবেই এগিয়ে আছেন তিনি।
৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বিমল বিশ^াস। আগেও নির্বাচন করা বিমল বিশ^াস এবারো বিজয়ী হতে আছেন মাঠে। বারবার নির্বাচন করে হারা বিমলের প্রতি সংবেদনশীল মানুষ যদি এবার একটু ফিরে চায়,তবে হয়তো লড়াইয়ের মাঠে প্রতিদ্বন্ধিতা গড়ে তুলতে পারবেন তিনি।
৯ নং ওয়ার্ডে ভোটের লড়াইয়ে আছেন পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর সন্তোষ চাকমা। এই ওয়ার্ডে লড়ছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল আলমও। দুই আওয়ামীলীগ নেতার সাথে আরো একাধিক প্রার্থী। ফলে ভোটের মাঠ বেশ কঠিনই বৈকি। তবে আশাবাদী দুই তরুণ আওয়ামীলীগ নেতাই। জয়ের জন্য প্রচেষ্টাও তাই থেমে নেই তাদের। জয়ী হতে দৌড়াচ্ছেন ওয়ার্ডের সর্বত্রই।
সংরক্ষিত তিন ওয়ার্ডের দুটিতেই কোন প্রাথী নেই পৌর বা ওযার্ড আওয়ামীলীগের। ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত ওয়ার্ড-২ এ লড়ছেন পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রোকসানা আক্তার। এর আগেও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রোকসানা এবারো ভোটযুদ্ধে বেশ শক্ত প্রার্থীই। তার পক্ষে কাজ করছেন দলের নেতাকর্মী সমর্থন ও স্বজনরা। ভোটের মাঠের পুরনো খেলোয়াড় রোকসানা যদি ঠিকঠাক কৌশলের পুরোটা ব্যবহার করতে পারেন,তবে বিজয়ীর হাসি হাসতেও পারেন।
পৌর ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগসহ আওয়ামী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়া সকলের জন্য শুভকামনা জানিয়ে রাঙামাটি পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মনসুর আলী বলেছেন,‘ যদি কাউন্সিলর নির্বাচন দলীয় নয় এবং যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সবাই নিজ সিদ্ধান্তেই প্রার্থী হয়েছেন,তবুও তাদের সবার জন্য আমাদের শুভকামনা থাকবে। আমরা চাই তারা বিজয়ী হয়ে পৌরসভায় গিয়ে পৌরবাসির সেবায় শতভাগ উজাড় করে কাজ করুক। জনগণ যদি তাদের রায় দিয়ে মনোনীত করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
