খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ির গুইমারার সড়ক পার হওয়ার সময় মোটর সাইহেলের সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয় একটি মেছো বিড়াল। সেখান থেকে বিড়ালটি উদ্ধার করে চলে সেবা শুশ্রুষা। সবশেষ সম্মিলিত চেষ্টায় সুস্থ করে বিড়ালটিকে বনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ির আলুটিলা এলাকায় বনে মেছো বিড়ালটি ছেড়ে দেয় স্থানীয় কিছু তরুণ স্বেচ্ছাসেবী।
জানা যায়, গত রবিবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ির গুইমারা এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় একটি মেছো বিড়াল গুরুতর আহত হয় পড়ে থাকে। এসময় মানিকছড়ির থেকে কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলে করে ফেরার সময় উসাথোয়াই মারমা ও অং মারমা বিড়ালটি দেখতে পায়। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি নিয়ে আসে।
উসাথোয়াই মারমা জানান, বিড়ালটি সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। আশপাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। বিষয়টি খাগড়াছড়ির পরিবেশ ও সমাজকর্মী অপু দত্তকে জানাই। তিনি বিড়ালটি উদ্ধার করে নিয়ে আসতে বলেন। তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করান। পরবর্তীতে স্বপন ডেইরী এন্ড পোল্ট্রি হাউস এর স্বত্ত্বাধিকারী স্বপন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলে।
স্বপন চৌধুরী জানান, ছোট বেলা থেকে পশু পাখির প্রতি ভালোবাসা। তাদের সেবা করতে পারলে নিজের কাছে ভালো লাগে। বিড়ালটির খবর পেয়ে আমি যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা দিয়েছি। বাকিটা বনের পরিবেশ পেলে সুস্থ হয়ে যাবে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ির আলুটিলা এলাকার বনে মেছো বিড়ালটি ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা বিক্রম ত্রিপুরা, সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী অপু দত্ত, সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান, উসাথোয়াই মারমা, অং মারমা, স্বেচ্ছাসেবক মো. হামিম, অজয় দাশসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এই বিষয়ে অপু দত্ত বলেন, মেছো বিড়ালটিকে সুস্থ করা ছিল একটি সম্মিলিত প্রয়াস। সমাজে এটি একটি বার্তা হতে পারে যে বন্য প্রাণীর প্রতি আমাদের যতœবান হতে হবে। এমনিতেই তাদের আবাসস্থল ছোট হয়ে আসছে। বন্য প্রাণী ধ্বংস করে আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলছি। প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় আমাদের আরো সচেতন হতে হবে।
