সুহৃদ সুপান্থ
কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়ি সদরে অবস্থিত কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারে নতুন ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মানের জন্য অনুমতি ছাড়াই নির্বিচারে কাটা হচ্ছে বড় বড় সব গাছ। বুধবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন নির্মানের জায়গায় বিভিন্ন ধরনের বড় বড় বেশ কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। পাশেই গিয়ে চোখে পড়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়ে কাটা হয়েছে অনেক দিনের পুরনো বিভিন্ন প্রজাতির বড় গাছ। এর মধ্যে রয়েছে জাম,কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ।
এবিষয়ে ওই জায়গায় কাজ করা কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজকে বুধবারও কিছু গাছ কাটা হয়েছে। তারা কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার জন্য জানান।
কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুজামান ইমরানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সম্প্রতি কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের পুরাতন ভবনের সম্প্রসারনের জন্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এছাড়া পুরাতন ভবনের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে সীমানা প্রাচীরের জায়গায় গাছ কর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সীমানায় যে ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ রয়েছে তাকে কেবলমাত্র গাছের ডালপালা কাটতে বলা হয়েছে। ওখানে যে বড় বড় কিছু গাছ কাটা হয়েছে ওই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি ঘটনা শোনার পর সরজমিনে গিয়ে দেখবেন বলে জানান।
নতুন ভবন নির্মাণের জন্য যে গাছ কাটা হয়েছে তার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাসিক একটি সমন্বয় সভায় গাছ কাটার বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়েছিলো। তবে অনুমতি পাওয়া গেছে কিনা, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
এদিকে কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের সীমানা প্রাচীরের পাশে যিনি গাছ কেটেছেন তার নাম আপাই মারমা। এবিষয়ে আপাই মারমার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি গাছ গুলো কেটেছেন। এছাড়া এগুলো তার মালিকানাধীন গাছ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগেও তার বাগানের গাছগুলো কোন অনুমতি ছাড়াই কেটেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
কাপ্তাই বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হক মুরাদ জানান, এই ধরনের গাছ কাটতে হলে সংশি¬ষ্ট বন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন। তবে কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টার অনুমতি নিয়েছে কিনা এবিষয়ে আমি অবগত নই।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান বলেন, কাপ্তাই হর্টি কালচার সেন্টারের গাছ কাটার বিষয়ে অনুমতির বিষয়টা অনুমোদন হয়েছে কিনা আমার ঠিক মনে পড়ছেনা, এবিষয়ে তিনি নিশ্চিত হয়ে জানাবেন বলে জানান।
এদিকে এইভাবে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টার কতৃক অনেকদিনের পুরাতন গাছগুলো কেটে ফেলার বিষয়ে পরিবেশবাদি সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ এর পরিচালক হেফাজত সবুজ বলছেন,‘ প্রয়োজনে যে কেউই গাছ কাটতে পারেন,তবে সেটা অবশ্যই অনুমতি সাপেক্ষে হতে হবে। কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টার যেভাবে ফ্রিস্টাইলে গাছ কাটছে এবং অনুমতি আদৌ আছে কিনা সেটা সংশ্লিষ্টরাই কেউই জানেনা ! আমরা এই অনুমতিহীন অপ্রয়োজনীয় বৃক্ষনিধনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আশা করছি প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিবে।’
