বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান বলেছেন, ‘পাহাড়ের শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্যে সরকার শান্তি চুক্তি করেছে। কিন্তু শান্তি চুক্তির পরের বছর থেকে একটি মহল পাহাড়ে শান্তির পরিবর্তে অশান্তি ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছে। আমাদের চোখ-কান খোলা রাখা উচিত, সামনে কিছু দুষ্কৃতকারী, অবৈধ অস্ত্রধারী এখানে শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। যেহেতু আমরা বেশির ভাগ মানুষ পাহাড়ের শান্তি চাই, ফলে সে সব দুষ্কৃতকারীরা সফল হবে না।’
সোমবার রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার পাংখোয়া পাড়া ‘ট্রাইবাল ভিলেজ মিউজিয়াম’র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি পাংখোয়া পাড়ায় মিউজিয়াম উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ভৌগলিক অখন্ডতাকে যদি কেউ খাটো করে দেখার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে এখানের সেনাবাহিনী তা বরদাশত করবে না। শান্তি চুক্তির যে গভীরতা, তা আমরা অনুধাবন করি। শান্তি চুক্তিকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই, আপন করতে চাই, শান্তি চাই, সম্প্রতি চাই। এবং শান্তি চুক্তির জন্য আমরা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে চাই। কিন্তু কখনোই তা আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগলিক অখন্ডতার বিনিময়ে না। এখানের কিছু বিপদগামী মানুষ আলাদা রাজ্যের কথা ভাবছে; বাংলাদেশের ভিতরে অন্য কোনও দেশ আর হবে না। এসব বিপদগামীদের সঙ্গে থাকবেন না, ভালোদের সঙ্গে থাকবেন। আমরা সব সময় ভালোদের সাথে আছি।’
এসএম মতিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাহাড়ের যে কোনও খারাপ কাজ-মারামারি, খুন, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, চাঁদাবাজি এগুলো বন্ধ করার যে প্রচেষ্টা তার সাথে আপনারা এক হবেন এবং আমাদেরকে সহযোগীতা করবেন। তাহলেই আমরা সফল হবো, আমাদের দেশকে সমৃদ্ধির শেখরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছি। এগুলো হচ্ছে- শান্তি, সম্প্রতি এবং উন্নয়ন। আমরা কাজ করতে গেলে অনেক ধরনের প্রপাকান্ডা, গুজব ছড়ানো হয়। এখানে যে সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি এবং বাঙালি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ আছেন আপনারা বলেন এখানে আমরা কী না করেছি। গত বছর রাঙামাটিতে যখন পাহাড়ধস হয়েছিলো তখন সেনাবাহিনী নিজের জীবন বাজি রেখে সবার আগে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেছে। একাজ করতে গিয়ে আমরা কখনই ভাবিনি যাদের উদ্ধার করছি তারা কোন কমিউনিটির লোক এবং এ উদ্ধার কাজে আমাদের দুই সেনা কর্মকর্তাসহ পাঁচজন সেনা সদস্য মারা গিয়েছে।’
জিওসি আরও বলেন, ‘আমরাও মানুষ, কাজ করতে গেলে আমাদেরও ছোটখাটো ভুল হতে পারে বা ভুল হয়। এত ভালো কাজ করার পরেও যখন ছোটখাটো ভুল হয় তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা উচিত। পার্বত্য দুর্গম অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া আমরাই পৌঁছে দিয়েছি। আমরা এখানে এসে অনেক প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করে কাজ করে যাচ্ছি। আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থা কী ছিলো এবং বর্তমানে কোথায় আছে আপনারা দেখতে পারছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি সম্প্রতি রক্ষায় সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে, আগামীতেও এ ধারা অব্যহত থাকবে।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি ৩০৫ ব্রিগ্রেড’র বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ, বিলাইছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্নেল শেখ আব্দুল্লাহ, বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ ইকবারসহ পাংখোয়া কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
উদ্যোক্তারা মনে করেন, এ ভিলেজ মিউজিয়াম’র মাধ্যমে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং সকলের মাঝে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে। এছাড়া বিভিন্ন ঝরনার টানে বিলাইছড়িতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হচ্ছে। তারা এ ভিলেজ মিউজিয়াম পরিদর্শন করে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর জীবনধারা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে। পাংখোয়াদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করতে পারবে। এতে করে পাংখোয়া জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হবে। শেষে এ অঞ্চলের পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্যে চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান ছয় লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।
