নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা; এটি রাজনৈতিক ভাবেই সমাধান করতে হবে। তবে সরকার এটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব করছে। তিনি বলেন, আমাদেরকে বারবার আওয়ামীলীগের সাথে মুখোমুখি করা হচ্ছে, কিন্তু আমরা বলতে চাই আওয়ামীলীগ আমাদের শত্রু নয়; বন্ধু। তবে আমাদের দাবি-অধিকার আদায়ে আমরা আন্দোলন, সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাঙামাটি জিমনেশিয়াম প্রাঙ্গণে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরো বলেন, সরকার বলছে ৪৮টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটা তো বহু বছর ধরে বলেই চলছেন। বাকি ধারাগুলো কবে বাস্তবায়ন করবে সরকার। সন্তু লারমাকে আপনারা এখন চাঁদাবাজ বলছেন, তখন কেন চুক্তি করলেন। সন্তু লারমা দেশপ্রেমিক বলেই ওনি এখনো সব কিছু মেনে নিচ্ছে। সরকারকে সবসময় সহযোগিতা করছে। আমরা কোন অস্ত্র বা বুলেট রেখে আসেনি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইউপিডিএফ অস্ত্র জমাদানকারীদের হত্যা শুরু করার পর তখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। তিনি বলেন, বান্দরবানে কেএনএফ সৃষ্টি করে জেএসএস কর্মকান্ড প্রতিহতের চেষ্টা করা হয়েছে। পরে দেখা গেল, তারা জঙ্গিবাদী কাজ করছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। কি করতে কি হয়ে গেলো।

‘জুম্ম জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করুন’ এই স্লোগানে আয়োজিত গণসমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এমএন লারমা মোমিরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেমন চাকমা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর সহ-সভাপতি ভবতোষ দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনি চাকমা, যুব সমিতি রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি অমিতাভ তঞ্চঙ্গ্যা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধরণ সম্পাদক শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা বক্তব্য রাখেন।
ঊষাতন তালুকদার এসময় বলেন, পার্বত্য জেলায় সব ক্ষমতা ডিসি ও এসপি সাহেবের। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কোন ক্ষমতা নাই। তারা শুধু গম চাউল ভাগ করে আর শিক্ষক নিয়োগ দেয়। সেই নিয়োগ পেতে আবার ১০/১২ লাখ টাকা লাগে। পাহাড়ের মানুষ গরীব, তারা এতো টাকা দিতেও পারে না, চাকরিও পায় না। চুক্তিতে এসআই থেকে কনস্টেবল জেলা পরিষদ নিয়োগ দেয়ার কথা। যখন পুলিশ জেলা পরিষদে ন্যস্ত করার কথা আসলে ভয় ঢুকে সরকারের মাথায়। সব কিছু যাচাই-বাছাই করেই তো চুক্তি করেছেন, তাহলে এখন কেন এতো গড়িমসি আপনাদের। পরিবার থেকে গ্রাম পর্যায়ে সকলকে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আন্দোলন সংগ্রাম ছাড় চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব না। চুক্তি বাস্তবায়নে তাই জুম্ম জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হতে ২৫ বছর সময় লেগেছে। তাহলে ৭২ বছররেও বাকিধারাগুলো বাস্তবায়িত হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত। চুক্তি বাস্তবায়ন যদি না হয় তাহলে আবার লড়াই সংগ্রাম শুরু করতে হবে। ১৯৯৭ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে অস্ত্র জমা দিয়েছেন শান্তির জন্য আজ ২৫ বছর পরও শান্তি মেলেনি। অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করা ছাড়া বিকল্প নেই।

গণসমাবেশ অন্যান্য বক্তারা বলেন, পাহাড়ে ভূমি, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন এবং অভ্যন্তরীণ ও প্রত্যাগত উদ্বাস্তু পুনর্বাসন হয়নি। সরকারের মধ্যে একটি অংশ চুক্তি বিরোধিকাতার স্বার্থ সংরক্ষণ করছে। চুক্তি বাস্তবায়নে যত দেরি হবে, দলবাজি ও চাঁদাবাজি তত বাড়বে। নতুন নতুন দলও গজিয়ে উঠবে। ভূমি কমিশনের প্রবিধান না হওয়ার ভূমি কমিশন কোন কাজ করতে পারছে না। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলন সংগ্রাম ছাড় চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব না। চুক্তি বাস্তবায়নে তাই জুম্ম জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় গণসমাবেশ থেকে।
