সাইফুল হাসান ॥
দেশের জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে সকল কিছুর দাম বাড়তে থাকায় যার প্রভাব পড়েছে সকল ক্ষেত্রে। এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের বাজারেও। পোল্ট্রি ব্যবসায়ে এই প্রভাব পড়েছে ব্যাপক হারে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও যে প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ জেলায় ডিম উৎপাদন খামার গুলোতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং উৎপাদন কম হওয়ায় পুষিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা।
খামার ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল বলেন, খামার থেকে এক হাজার ডিম পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে ১,১৫০ টাকায়। যেখানে একটি ডিমের পাইকারি মূল্য পড়ছে ১১ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে একটি ডিম উৎপাদনে মোট খরচ হচ্ছে প্রায় ৮ টাকা ৫০ পয়সা। আর এই ডিম খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস প্রায় ১৩ টাকা করে। তিনি আরও বলেন, আমাদের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। গত জানুয়ারিতে আমরা যে খাদ্য ক্রয় করতাম ১৮৫০ টাকায় সেই খাদ্য আমরা এখন ক্রয় করছি ২৭৫০ টাকা দিয়ে।
খুচরা ডিম বিক্রেতা জনি দে বলেন, আমরা ডিম পাইকারি ক্রয় করে সেটা আবার পরিবহন দিয়ে আনতে যে পরিমাণে খরচ হচ্ছে এতে করে আমাদের এক টাকা লাভ তুলতেও কষ্ট হয়ে পড়ছে। আগে যেখানে আমরা ডিম ৮ টাকা ১০ টাকায়ও বিক্রি করে অন্তত দুই টাকা লাভ তুলতে পারতাম।
রাঙামাটি এম পোল্ট্রি ফার্ম’র সত্ত্বাধিকারী মাসুদুল হক বদরুল জানান, গত দুই মাস আগেও ডিমের দাম ছিলো ৮ টাকা, এতে করে খামারিদের ক্ষতি হয়েছে। কারণ খাদ্যর দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা উৎপাদন খরচও তুলে আনতে পারেনি। তাই অনেক খামারিরা বর্তমানে খামার বন্ধ করে দিয়েছে। এখন খামার বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু বাজারে চাহিদা ঠিকই আছে। সেজন্য চাহিদার তুলনায় ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে যে সকল খামারিরা বর্তমানে ডিম উৎপাদন করছে তাদের খরচ বেশি হচ্ছে কারণ জানুয়ারিতে যে খাদ্যের দাম ছিলো ১৮৫০ টাকা তা দুই মাসে চার দফা বেড়ে বর্তমানে ২৭৫০ টাকা। প্রায় প্রতি বস্তা খাদ্যে এক হাজার টাকা করে বেড়ে গেছে। এছাড়া জ¦ালানী তেলের দাম বাড়ায় প্রতি বস্তায় ৩০ টাকা করে গাড়ি ভাড়া বাবদ খরচ বেড়ে গেছে বর্তমানে। এত বাড়তি খরচ বেড়ে যাওয়ার পর ব্যবসা টিকিয়ে রাখা বড্ড কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
বন্ধ খামার গুলো চালুর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, একটি ডিম পাড়া মুরগি অন্তত ছয় মাস সময় লাগে ডিম পাড়া শুরু করতে। তাহলে যে সকল খামার বর্তমানে বন্ধ সে সকল খামার চালু করলেও অন্তত এক বছর সময় লাগবে বাজারে ডিম আসতে।
ডিমের দাম বাড়ার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে হোটেল গুলোতেও। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আগে যেখানে একটি ডিম নেওয়া হতো ২০ টাকা সেখানে এখন হোটেলগুলোতে নেয়া হচ্ছে ২৫ টাকা করে। পুরাতন বাস স্টেশনের আলম ভাত ঘর’র সত্ত্বাধিকারী দিদারুল আলম বলেন, আমার এখানে প্রায় কাস্টমার হচ্ছেন গাড়ির ড্রাইভার এবং শ্রমিক শ্রেণির লোকজন। তারা খরচ বাঁচাতে ডিম এবং সবজি দিয়ে প্রায় ভাত খায় কিন্তু এখন তো ডিমেরও ৫টাকা বেড়ে গেছে। তাও বিক্রি হচ্ছে, কি করবে মানুষ তো আর মাছ-মাংস দিয়ে খেতে পারছে না। এতে তো তাদের খরচ পোষাবে না।
ট্রাক ড্রাইভার করিম মিয়া বলেন, যে টাকা আয় করি এতে করে তো আর প্রতি বেলা বউ বাচ্চা নিয়ে মাছ-মাংস তো খেতে পারি না। তাই কয়েক বেলা এই শাক সবজি কিংবা ডিম দিয়ে চালিয়ে নিতে হয়। কিন্তু এখন তো সেটারও দাম বাড়তি, সবজিরও দাম বেড়েছে ডিমেরও দাম বেড়েছে। আমরা যে কোথায় যামু যত জ¦ালা এই পেট নিয়ে।
রাঙামাটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বরুণ কুমার দত্ত জানান, উৎপাদন খরচ বেড়েছে তাই বাজারে ডিমের দাম বাড়তি। এছাড়া দেশে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে এতে করে প্রতিটি খামারে উৎপাদনও কমে গেছে। মূলত সমস্য হচ্ছে উৎপাদন কমেছে এবং উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে একটি ডিম মানুষের যে পরিমাণে শারীরিক সহায়তা করে সে তুলনায় এ দাম বেশি বলে মনে হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, রাঙামাটির যে সকল খামার আছে এবং এসকল খামার থেকে উৎপাদিত ডিম দিয়ে সারা বছর পোষায় না। এমনিতেও আমাদেরকে জেলার চাহিদা মিটানোর জন্য চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ডিম আনতে হয়।
