অরণ্য ইমতিয়াজ
এই যে পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর নিয়ে এতো যুদ্ধ,বিজয়ী হওয়ার প্রানান্ত প্রচেষ্টা,দিনরাত পরিশ্রম, বিপুল অর্থ ও শ্রমের অপচয়, কিন্তু কি লাভ পৌর মেয়র বা কাউন্সিলর হয়ে ? এনিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। একজন নির্বাচিত মেয়র বা কাউন্সিলর কি কি সুযোগ সুবিধা পান ? পাঠকের এই আগ্রহের সমাধান করতে চেয়েছি আমরা।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পদমর্যাদা ক্রম হল একটি প্রোটোকল তালিকা বা রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদ সমূহের ক্রমবিন্যাস। এই তালিকানুসারে রাঙামাটি পৌরসভা যেহেতু প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা,তাই এই পৌরসভার মেয়র নিজ পৌর এলাকায় ‘২৫’ তম গ্রেডের মর্যাদা পেয়ে থাকেন। এই গ্রেডে তার আগে আছেন সিভিল সার্জন ও জেলায় দায়িত্বরত সরকারের উপসচিবগণ। একই পদমযার্দা পেয়ে থাকেন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার অফিসার,নৌ বা বিমান বাহিনীর একই পদমর্যাদার কর্মকর্তা,পুলিশ সুপার,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানগণ, ২য় এবং ৩য় শ্রেণীর পৌরসভার মেয়রগণ।
রাঙামাটি পৌরসভায় যিনি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হবেন তিনি পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে মাসে ৪০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা,মেয়রের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ী, প্রতিদিন ৭ লিটার গাড়ী তেল, একজন ব্যক্তিগত সহকারি পেয়ে থাকেন। এছাড়া যাতায়াত,চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য কাজে তিনি একজন উপসচিব পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তা যেসব সুযোগ সুবিধা পান,সেসব পাবেন। তিনি নিজে মেয়র হিসেবে পৌরসভার সকল অনুদান,বরাদ্দ কিংবা আর্থিক চেকের অন্যতম সাক্ষরকারি এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান প্রদান করতে পারেন,যা তাকে পৌর পরিষদে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
তবে মেয়রের তুলনায় দৃশ্যত বেশ পিছিয়ে আছেন কাউন্সিলররা। একজন কাউন্সিলর পৌরসভা থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা সম্মানী ভাড়া ছাড়া আর কিছুই পান না। রোদে পুড়ে,বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার কঠিন কাজটি তাকে করতে হয় নিজস্ব অর্থায়নেই।
তবে মেয়র বা কাউন্সিলররা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত এই ‘সম্মানী’কে সম্মান হিসেবেই দেখেন। জনসেবাকেই মূলত: অগ্রাধিকার দেন বলে জানিয়েছেন সাবেক বর্তমান একাধিক মেয়র ও কাউন্সিলর।
