রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কাট্টলী বিলে শনিবার সকালে জেলেদের জালে ধরা পড়লো ৩৩ কেজি ওজনের একটি কাতাল মাছ। হ্রদের জলে ধরা পড়া মাছটি খোদ রাঙামাটি শহরেই বিক্রি হলেও, সেটি কার বাসায় গেছে কিংবা কে কিনেছেন সেই সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি ।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে লংগদু থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল ইসলামের ফেসবুক আইডিতে মাছের ছবি এবং একটি ভিডিও পোষ্ট করেন তিনি। পোষ্টে তিনি লেখেন ‘আজ লংগদুর কাট্টলী বিলে ৩৩ কেজি ওজনের কাঁতাল মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কথা হয় সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে কাট্টলী বিল থেকে ফোনে ওসি স্যারকে মাছের বিষয়টি জানায় স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী লালু সরকার। স্যার আমাকে কাট্টলী বিলে গিয়ে মাছটির খবর নিতে বলেন। আমি সাড়ে আটটার দিকে গিয়ে দেখি বিশাল এক কাঁতাল মাছ জেলেদের নৌকায় রাখা হয়েছে। ওজন করে দেখা যায় মাছটির ওজন ৩৩ কেজি ৫০০ গ্রাম। যার পেটে ডিমে ভরা। ধারনা করা হচ্ছে, মাছটিতে ডিম হবে ৫ কেজির মতো। এরপর মাছটি লংগদু বাজারে আনলে থানার মেসের জন্য ৬০০টাকা দরে দাম বলা হয়েছে। তবে বিক্রেতা ৮৫০ টাকার কমে দিতে পারবে না বলে মাছটি স্পীডবোটে করে রাঙামাটি নিয়ে যায় ব্যবসায়ী লালু সরকার। শুনেছি ৯০০ টাকা দরে ঢাকার এক ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নিয়েছে।’
ব্যবসায়ী লালু সরকারের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জেলেদের নাম ও মাছটির দাম বলতে রাজি হয়নি। অনেক জেরার পর তিনি জানান, লেকের জেলেরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন (অগ্রিম টাকা) খেয়ে আছে। কিন্তু ব্যবসায়ীকে মাছটি না দিয়ে বাইরে বিক্রি করেছে। এটা জানলে ওই ব্যবসায়ী জেলেকে আর অগ্রিম টাকা পয়সা (দাদন) দেবে না। নাম বললে ওই জেলের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। এরপর তিনি বলেন, মাছটি বিক্রির জন্য রাঙামাটি শহরের বনরুপা বাজারের ব্যবসায়ী মনিশ ত্রিপুরার কাছে নিয়েছিলাম এবং ১০০০ টাকা কেজি চেয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত তার কাছেও বিক্রি করতে পারিনি। পরে এক লোক এসে মাছটি নিয়ে গেছে এখনো টাকা পয়সা পাইনি।’ তবে কে কার জন্য মাছটি নিয়েছে,সেই বিষয়ে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে সকল ধরণের মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রির ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে যাওয়ায় ধরা পড়ছে ডিমওয়ালা বড় বড় মা মাছ।
