রাঙামাটিতে অন্তঃসত্ত্বা এক জনপ্রতিনিধিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নিজের চাচাত ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারীকে গত বুধবার রাতে হোটেলে পানীয়ের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ধর্ষণ করে বলে ভুক্তভোগী নারী জানান। তিনি জেলার লংগদু উপজেলার লংগদু ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর কোতোয়ালী থানা পুলিশ অভিযুক্ত ঝংকু চাকমাকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা নারীটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তার ঝংকু চাকমার (বাবলু) বাড়ি লংগদু উপজেলার ছোট কাট্টলি এলাকায়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘গত ২৪ এপ্রিল বুধবার আমি লংগদু থেকে রাঙামাটি আসি। ওই দিন আমার জেঠাতো ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলে তার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। ভাই হওয়ার কারণে তাকে বিশ্বাস করে রিজার্ভ বাজারের গ্রীন ক্যাসেলে তার রুমে আমিও যাই। সে আমাকে কোকাকোলার সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি তার কাছে হাত পা ধরে মাফ চাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি নিজেকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখি এবং আমার পাশে তাকে দেখতে পাই। আমি বুঝতে পারি রাতে সে আমাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেছে। পরে আমি আমার পরিবারের সাথে কথা বলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। পরে শুক্রবার তার বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করি।’
নারীটির স্বামী সাধন কুমার চাকমা বলেন, ‘আমার স্ত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এমন কাজের জন্য গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।’
লংগদু ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জগদীশ চন্দ্র চাকমা বলেন, ‘বাবলু ছেলেটা ভালো না। এ পর্যন্ত সে তিনটি বিয়ে করেছে। একটা বৌও তার কাছে থাকে না। ভালো ছেলে হলে তো ওর সাথে বৌ থাকতো। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
লংগদু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু) বলেন, ভিকটিম এখনো আমাকে কিছুই জানাননি। তবে বিষয়টি আমি শুনেছি। এই ঘটনার সাথে যেই জড়িত তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, ‘ভিকটিম থানায় অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্তি ঝংকু চাকমা বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঝংকু চাকমা ঘটনা স্বীকার করেছে।’
