নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলিতে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সুরেশ চন্দ্র চাকমা জীবেশ এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের প্রায় দশঘন্টা পর ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ের ঢাল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন খান।
শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার দুর্গম বঙ্গলতলি ইউনিয়নের বি ব্লক এলাকায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত সুরেশ সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো বলে দাবি করেছে স্থানীয় একাধিক সূত্র। তবে তিনি সংগঠনটির কোন দায়িত্ব পালন করছেন কিনা,সেই সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি তারা, এমনকি এই হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছুই জানায়নি তার সংগঠন জনসংহতি সমিতিও।
স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, নিহত সুরেশ চন্দ্র চাকমা জীবেশ মূল জনসংহতি সমিতি’র অনেক পুরনো কর্মী এবং সাবেক গেরিলা সংগঠন শান্তিবাহিনীর সদস্য। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক নানান দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি উপজেলা কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংগঠনটির বিচার কমিটির উপজেলা প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। সুরেশ তার নিজের বাড়িতে নয়,বাড়ির কাছেই এক প্রতিবেশির বাড়িতে রাতযাপন কালেই গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি তাদের।
প্রাণনাশের ভয়ে তিনি নিয়মিতই নিজ বাড়ির বাইরে রাত্রিযাপন করতেন বলেও জানিয়েছে সূত্রগুলো।
এদিকে সকালে হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কোন লাশেরও হদিস পায়নি আইনশৃংখলাবাহিনী। আইনশৃংখলাবাহিনী ধারণা করছে,তারা পৌঁছানোর আগেই লাশ সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
দীর্ঘসময় খোঁজাখুঁজির পর বিকাল পৌনে চারটার দিকে তার লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তবে বিকেল পর্যন্ত এই বিষয়ে মুখ খোলেনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সংগঠনটির দায়িত্বশীল কোন নেতাই ফোনও ধরছেন না। অন্যান্য ঘটনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক বিবৃতি পাঠানো হলেও এই হত্যাকান্ডের প্রায় ছয়ঘন্টা পরও কোন বিবৃতি পাঠায়নি সংগঠনটি।
তবে সংগঠনটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক জুপিটার চাকমা জানিয়েছেন,তাদের নিজেদের মধ্যকার আভ্যন্তরীন বিবাদে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে জেনেছি। ওই এলাকাটি সম্পূর্ণই জনসংহতির ঘনিষ্ঠ সংগঠন ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রনাধীন। সেখানে আমাদের পক্ষে প্রবেশ করাও কঠিন ও কষ্টসাধ্য। তারা নিজেরাই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আমাদের উপর দোষ চাপাতে চাইছে, কারণ তারা জানে যেহেতু তাদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব সেহেতু সবাই বিশ^াস করবে।’
