শংকর হোড় ॥
হেমন্তের দুপুরে কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলরাশিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। পার্বত্য চুক্তি দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে রাঙ্গামাটি সেনা জোনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নৌকা বাইচে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নৌকা নিয়ে হাজির হয় প্রতিযোগিরা। নৌকা বাইচ দেখতে এসময় হ্রদের তীরে ভিড় করে হাজারো নারী-পুরুষ। চারটি ইভেন্টে ৫৫টি দল এই নৌকাবাইচে অংশগ্রহণ করে।
ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখতে এসময় কাপ্তাই হ্রদের তীরে ভিড় করে হাজারো পাহাড়ি-বাঙালি নারী, পুরুষ। অনেকেই বোট-নৌকা নিয়ে হাজির হলেন নৌকা বাইচ দেখতে। শুধুমাত্র শহর থেকেই নয়; দূর গ্রাম থেকে পাহাড়ি নারী-পুরুষ নৌকা বাইচ দেখতে ভিড় করে শহীদ মিনারের নিচে হ্রদের জলে। তাদের হর্ষোধ্বনি ও উল্লাসে এই সময় প্রতিযোগিরা বৈঠার তালে তালে এগিয়ে যায়। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খেলায় মুগ্ধতা প্রকাশ পায় তাদের চোখে-মুখে।
কেল্লামুড়া থেকে আসা জয়িতা ত্রিপুরা বলেন, নৌকা বাইচ খেলা দেখতে এসেছি। পাড়া থেকে কয়েকটা বোট এসেছে। আমরা খুবই উপভোগ করি নৌকা বাইচ। আমাদের পাড়া থেকে নৌকা বাইচে বিভিন্ন ইভেন্টে কয়েকটি দল অংশ নিয়েছে। সকলেই খুবই মজা করছি।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার, রাঙামাটি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান পিএসসি, বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. তরিকুল ইসলাম সিবিজিএমএস পিএসসি, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. প্রীতি ভূষণ বড়–য়া।
প্রধান অতিথি দীপংকর তালুকদার বলেন, চুক্তির ফলে পাহাড়ে পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রতি সহকারে বসবাস করছে। এই সম্প্রতির বহিঃপ্রকাশ হলো এই আয়োজন।
রাঙামাটি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান বলেন, এই আয়োজন সকলের মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি করবে।
