৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৬ এপ্রিল প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে। পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল খাগড়াছড়িতেও করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। কিন্তু বিগত এক সপ্তাহ ধরেই সারাদেশে করোনা সংক্রমণের বাড়তে থাকলেও একমাত্র করোনামুক্ত জেলা ছিল রাঙামাটি। এক সপ্তাহ ধরে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা রাঙামাটিবাসী একদিনে চারজনের দেহে করোনা সংক্রমণের খবরে যেন হাঁসফাঁস করছে।
রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের বুধবারের ল্যাব রিপোর্ট অনুযায়ী রাঙামাটির চারজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত তিন পুরুষ ও এক নারীর মধ্যে এক শিশুর বয়স নয় মাস এবং আক্রান্ত নারী পেশায় নার্স । অবশ্য অন্য দুজনের এক জন চট্টগ্রাম ফেরত শিক্ষার্থী আরেক স্থানীয় বাসিন্দা।
এদিকে জেলায় করোনার সংক্রমণের খবরে আতঙ্কিত জেলাবাসীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও। বিভিন্নজন বিভিন্ন স্ট্যাটাসও পোস্ট দিয়েছেন। আবার অনেকেই আতঙ্কিত না হয়ে জেলাবাসীকে আরও স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সূত্র বলছে, করোনা সংক্রমণ যেন জেলায় বিস্তার ঘটাতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের তৎপরতা দৃঢ় হবে। ইতোমধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘর ও আশপাশের এলাকা লকডাউন করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা অবশ্য বলছেন, রাঙামাটির করোনা আক্রান্ত চারজনই মোটামুটি সুস্থ আছেন। তাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে আগে থেকেই।
জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, দুপুরে করোনা শনাক্তের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর রিজার্ভবাজারের ১নং পাথরঘাটা ও দেবাশীষনগর এলাকা পুরো এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতাল এলাকা ও মোল্লাপাড়ার কিছু অংশও লকডাউনের আওতায় পড়েছে বলে জানান তিনি।
