জিয়াউল জিয়া ॥
রাঙামাটির লংগদুতে এক স্কুল ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের দায়ে একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এইএম ইসমাইল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটির লংগদু উপজেলার করল্যাছড়ি আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের ভিতরে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন মর্মে রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেত সক্ষম হয়েছে। আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (১) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধে দোষী সাবাস্ত করা হয়।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত অপরাধে দায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং এর অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছর কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আসামিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কালেক্টর (জেলা প্রশাসক)কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৬ ধারা বিধান অনুসরণ পূর্বক বিধি মোতাবেক আসামি মো. আব্দুর রহিমের মালিকাধীন স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয়বিধ সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুতক্রমে তা বিধি মোতাবেক ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় করে বিক্রয়লদ্ধ অর্থ এই ট্রাইব্যুনালে জমা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হলো। রায়ে পর্র্যবেক্ষণে বলা হয়, আসামি নিজের ছাত্রীকে ধর্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকতার মহান পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন।
এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান। আসামিপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট মো. মোক্তার আহমেদ বলেন, আমরা এই রায়ে খুশি না। এই মামলায় আমরা ন্যায় বিচায় পাইনি। উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো। আমাদের বিশ^াস আপিলে আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হবে।
বাদি পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট রাজীব চাকমা বলেন, মাননীয় আদালত যে রায় দিয়েছে, এই রায়ে আমরা খুশি।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম(অভি) বলেন, আমরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। আমরা মামলাটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। বিজ্ঞ আদালত আজকে আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় এই ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে একই বছরের ৫ অক্টোবর।
