রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপাকে ঘিরেই পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে বর্তমানে কাউন্সিলর হিসেবে আছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জামালউদ্দিন,যিনি বর্তমান পৌর পরিষদের মেয়র প্যানেলেও আছেন। আবারো ভোটযুদ্ধে নামছেন এই তরুণ,এটা নিশ্চিত। তার সাথে ভোটের মাঠে দেখা হচ্ছে,সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করা রবিউল আলম রবির। তরুণ জামাল আর পুরোনো রবি’র লড়াই নিয়ে তাই উচ্ছসিত এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৮৩১১ জন,যার মধ্যে পুরুষ ৪৭৮১ এবং নারী ৩৫৩০ জন। এই ওয়ার্ডে যেসব এলাকা আছে,সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-কাঠালতলি,আলকডক,লেকার্স,ইসলামি সেন্টার,উদ্যান কোয়ার্টার ও উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড,উত্তর গর্জনতলী,উত্তর ফরেস্ট কলোনী,কাঠালতলি পাড়া,ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কলোনী, ত্রিদিবনগর,দেওয়ানপাড়া,দক্ষিন গর্জনতলী,দক্ষিন ফরেস্টকলোনী,ধোপাপাড়া,মসজিদ কলোনী,ফিসারীঘাট,ফিসারী কোয়ার্টার,ফায়ারব্রিগেড,পৌর এলাকা,বনরূপা,বনরূপা বাজার,মৈত্রী বিহার এলাকা,শশী দেওয়ান পাড়া,বলপিয়া আদাম,সাঈদ ঘাট।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক হাব বনরূপার কাউন্সিলর হিসেবে এই ওয়ার্ডটি সবসময় বেশ গুরুত্ব বহন করে। এই ওয়ার্ডে বিজয়ী হওয়াটা তাই প্রেস্টিজিয়াস’ই বটে !
মোঃ জামাল উদ্দিন বর্তমান পৌর পরিষদের অন্যতম সক্রিয় এবং সফল কাউন্সিলর। তরুণ জামাল মানুষের বিপদে আপদে সবসময় দৌড়ে হাজির হন এবং করোনাকাল,পাহাড়ধস সহ বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে থেকে অর্জন করেছেন বিপুল আস্থা ও ভালোবাসা। সেই সাথে নিজের পারিবারিক ভাবমূর্তি,সবার সাথেই কমবেশি ইতিবাচক সম্পর্ক,রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব,কাউন্সিলর হিসেবে সফলতা,তাকে এবারের নির্বাচনেও অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনায় রাখতে বাধ্য করছে। রবিউল আলম রবি নির্বাচন না করলে তার বিজয় ছিলো সময়ের ব্যাপার মাত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরাবরই বেশ সক্রিয় জামাল অত্যন্ত শক্তিশালি প্রার্থী এবারের নির্বাচনেও। নিজের পরিবারের সদস্য, দল ও এলাকার তরুণরা এবং নিজের স্বজনরাও তার জন্য প্রানান্ত চেষ্টাই করবেন,ভোটের মাঠে,এটা নিশ্চিত। সেই সাথে থাকবে নিজ দলের সমর্থনও। ফলে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে বেশ এগিয়েই থাকবেন হেভিওয়েট এই তরুণ,নানান বিবেচনায়,নানান সমীকরণে।
রবিউল আলম রবি,রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তার কারণেই সর্বশেষ নির্বাচনে হঠাৎ মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামে। প্রথমে নিজ দল বিএনপির মনোনয়ন চাইলেও,সেটা না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নামা রবি,দুই হাজারেরও বেশি ভোট পান। নানান অনিয়মের কারণে আলোচিত সেই নির্বাচনে প্রবল বাধার মুখেও তার এই অর্জন ছিলো মূলত সাধারন মানুষের সাথে উঠাবসার কারণেই। এবার আর মেয়র নয়,পুরনো কাউন্সিলর পদেই ফিরতে চান রবি। ফলে জনসংযোগও করছেন জোরেসোরে। নিজের শান্তিনগর,রসুলপুরসহ নি¤œআয়ের মানুষের বসবাস করা এলাকায় তার অবস্থান বেশ শক্ত। ফলে ফের কাউন্সিলর হওয়া তার জন্য খুব কঠিন কোন কাজ নয়। তবে তার সম্ভবত একমাত্র প্রতিদ্বন্ধি জামাল বেশ শক্ত প্রতিপক্ষই। তার সাথে জয়ী হয়ে আসাটা অতটা সহজ যেমন হবেনা,তেমনি বিজয়ী হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয় ভোটের মাঠের এই পুরনো খেলোয়াড়ের।
জামাল কিংবা রবি,দুজনই ওয়ার্ডবাসির কাছে বেশ চেনা মুখ। দুজনই নিজ নিজ মেয়াদে নিজেদের কাজ ও যোগ্যতার পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছেন নিজেদের ভোটারদের কাছে। দুই সময়ের দুই হেভিওয়েট এবার মুখোমুখি হয়েছেন, লড়াইটাও হবে সেয়ানে সেয়ানে। সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ে শেষাবধি কে হাসবেন বিজয়ের হাসি বোঝা মুশকিল। আপাতত নিজেদের সাফল্যগাঁথা আর অর্জনের ফিরিস্তি নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তারা,শোনাচ্ছেনও সেসব। কিন্তু ভোটের দিন এইসব মানুষ,সেইসব ‘গল্প বা স্মৃতি’ কতটুকু মনে রাখেন আর ‘কৃতজ্ঞতার জবাব’ কিভাবে ফিরিয়ে দেন ইভিএম মেশিনে সেটাই দেখার বিষয় ! কারণ ‘জনরায়’ই শেষাবধি জনভিত্তির মূল স্তম্ভ,এটা জানেন জামাল এবং রবি দু’জনই !
