হেফাজত সবুজ ॥
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে রাঙামাটির সেন্ট ট্রিজার স্কুলে দুই দিনব্যাপী বিতর্ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। গেল ৯ সেপ্টেম্বর সকাল শুরু হওয়া কর্মশালা ১০ সেপ্টেম্বর বিকালে বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শেষ হয়। কর্মশালায় স্কুলটির বিভিন্ন শ্রেণী একশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
কর্মশালায় সনাতনী, সংসদীয় ও বারোয়ারী বিতর্কে বিষয়বস্তু বিন্যাস, নিয়ম-কানুন, উপস্থাপনা, বাচনভঙ্গী ইত্যাদি ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে সনাতনী, বারোয়ারী পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুন্না মজুমদার। কর্মশালা উদ্বোধন করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিস্টার কাকলি রোজারিও(আরএনডিএম)। এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন কর্মলালা সমন্বয়ক ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জাহান, জান্নাত আরা ঝুনু, সঙ্গীতা সেনগুপ্তা, চুমকি চাকমা, এলিজাবেথ পাংখোয়া মো. চাঁন মিয়া, আমিনুল ইসলাম।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া শ্রাবন্তী ত্রিপুরা বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা বিতর্কের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছি। যা আমাদের আগামীতে বিতর্ক করতে সহায়ক হবে। আমার অনেক জড়তা ছিল এই দুই দিনে সেগুলো অনেকটাই কাটিয়ে ওঠতে পেরেছি। অপর শিক্ষার্থী হ্লায়ই সাইং মারমা বলেন, বিতর্কের যে এতো প্রকার ভেদ তা আমি জানতামই না, তাছাড়া এর মাঝে যে এতো মজা লুকিয়ে আছে তা আমার জানা ছিল না। অনেক কিছুই শিখলাম। আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। যা আমায় আগামীতে অনেক সহায়তা করবে। আমরা চাই এমন আয়োজন আরও করা হোক।
প্রশিক্ষক মুন্না মজুমদার বলেন, শিক্ষার্থীরা একদিনের প্রশিক্ষণ শেষে যে পর্যায়ের বির্তক উপহার দিয়েছে তাতে আমি মুগ্ধ। এখানে আমি অনেক সম্ভাবনাময়ী বিতার্কিক দেখেছি। ওদের আরেকটু সহযোগিতা করলে একেকজন তুখোড় তর্ক-যোদ্ধা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কাকলি রোজারিও বলেন, এই কর্মশালার আয়োজন না করলে আমিও জানতাম না যে আমার স্কুলে এত ভালো-ভালো বক্তা আছে। এতো স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিযোগিতায় তোমাদের বক্তব্যগুলো আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেছি। তিনি আরো বলেন, এই প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে নিজেকে যোগ্য হিসাবে গড়ে তুলকে বিতর্কের কোনও বিকল্প নেই। বিতর্ক মানুষেক স্মার্ট করে, অন্য মতামতকে মূল্যায়ন করতে শেখায়। সব থেকে বড় কথা হলো বিতর্ক করতে হলে প্রচুর পড়তে হয়। সব বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে বিতার্কিক হওয়া যায় না। তাই আমি চাই আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা বেশি বেশি বিতর্ক করুক। আর আগামীতে আমরা আরও কর্মশালা আয়োজন করার চেষ্টা করবো।
