অপু দত্ত, খাগড়াছড়ি ॥
ঘর থেকে মূল ফটক পর্যন্ত রাজসিক পতাকার বাহার। তোড়ণ, সুসজ্জিত প্যান্ডেল, উন্নতমানের খাবার কি ছিল না আয়োজনে। সবকিছু মিলে মহাধুমধামে এক অসহায় গরীব পিতার কন্যার বিয়ের আয়োজন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। পুরো আয়োজনে অর্থ ও শ্রম দিয়েছে বিজিবি কর্মকর্তা ও সদস্যরা। বর ও কনে পক্ষের বাইরে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজিবির ব্যতিক্রমী এই বিয়ের আয়োজন প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহন মিয়া। দিনমজুর মোহন মিয়ার ছয় কন্যার মধ্যে পঞ্চম হালিমা আক্তারের সাথে বিয়ের কথা চলে একই এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে পরিবহন শ্রমিক জিয়াউর রহমানের সাথে। তবে বর পক্ষের শর্তনুযায়ী আয়োজনে খাওয়াতে হবে দুইশ বরযাত্রী। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েন অসহায় মোহন মিয়া।
সীমান্ত এলাকা হওয়ায় সেখানে দায়িত্বে রয়েছে ২৩ বিজিবি যামিনীপাড়া জোন। দিনমজুর মোহন মিয়ার খবর পৌছে যায় যামিনী পাড়া জোন অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল এ বি এম জাহিদুল করিমের কাছে। হতদরিদ্র পরিবারটির করুণ পরিস্থিতি জানতে পেরে বিয়ে সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেন বিজিবির অধিনায়ক। শুক্রবার দুপুরে ছিল বিয়ের আয়োজন।

বিজিবির কর্মকর্তা ও সদস্যরা নেমে পড়েন বিয়ের সাজসজ্জা থেকে সবধরনের কাজে। আত্মীয় স্বজন-পাড়া প্রতিবেশীদের মত সব দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা। সুসজ্জিত আয়োজনে বর ও কনে পক্ষের দুইশ অতিথিকে আপ্যায়ন করে বিজিবি। এতে অংশ নেন বিজিবি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। বর কনের জন্য নিয়ে আসেন নানা উপহার। এদিকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার দেন মোহরে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
অধিনায়কের পক্ষ থেকে নববধূকে একটি গরুও উপহার দেয়া হয়। বিজিবির এমন কর্মযজ্ঞে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কনের স্বজনরা।
স্থানীয় তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, জোন কমান্ডার মহোদয় নিজের মেয়ের মত মোহন মিয়ার মেয়ের বিয়ের সব আয়োজন করেছেন। তিনি নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য এতকিছু করবেন আমরা ভাবতেও পারিনি।
কনের পিতা মোহন মিয়া জানান, আমি অনেক খুশি। উনার(বিজিবি অধিনায়ক)জন্য আল্লাহ’র কাছে দোয়া করা ছাড়া আমার আর কিছুই করতে পারি না। আল্লাহ যেন উনাকে এবং উনার পরিবারকে শান্তিতে রাখে আমি সব সময় সেই কামনাই করি।
এই বিষয়ে ২৩ বিজিবি যামিনীপাড়া জোন অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল এবিএম জাহিদুল করিম বলেন, সীমান্তে সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তে স্থানীয় জনসাধারণের সামাজিক সুরক্ষার যে দায়বব্ধতা সেটি কিছুটা হলেও আমাদের উপরে আসে। তারই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে এটি আমাদের ছোট প্রচেষ্টা।
