আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান
বান্দরবানে সূয়ালক ইউনিয়নের কদুখোলায় নদীর পাড়ে পাওয়া গেল নবজাতক একটি শিশু। খালে মাছ ধরতে গিয়ে কান্না শোনতে পেয়ে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যান এক দম্পতি। কিন্তু স্থানীয় পাড়াবাসী পুলিশের জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন দেয়ায় শিশুটির ঠিকানা হলো বান্দরবান সদর হাসপাতাল। গত রোববার রাতে নয়টায় পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে বেবি কর্নারে নীবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম ও হাসিনা বেগম দম্পতি বলেন, সূয়ালক ইউনিয়নের কদুখোলা এলাকায় বাড়ির পাশের খালের পাড়ে মাছ ধরতে যান তারা। সকাল ১১টার দিকে খালে শিশুর কান্না শুানতে পান। কান্নার শব্দ শোনে এগিয়ে গেলে বস্তা পেচানো অবস্থায় একটি ছেলে দেখতে পান। পরে তারা দুজন শিশুটিকে বাসায় নিয়ে যায়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পাড়াবাসীরা পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
নবজাতক শিশুটি তীব্র শীতে খালী গায়ে পড়ে ছিলো নদীর পাড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ‘অবৈধ গর্ভপাত’ ঘটিয়ে নবজাতক শিশুটিকে তার মা-বাবা স্বজনরা সামাজিকভাবে পরিচয় গোপন রাখতে শিশুটিকে বস্তায় করে খালের পাড়ে ফেলে রেখে এসেছিলো। কদুখোলার স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল আলম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম ও হাসিনা বেগম দম্পতি খালের পাড়ে ফেলে রাখা শিশুটিকে উদ্ধার করেছে। পুলিশের জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ কল করলে সদর থানা পুলিশ রাত ৯টার দিকে বাচ্চাটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেন। পরে শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বাচ্চটিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মনজুরুল আলম বলেন, সদর হাসপাতালে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাকে নীবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে সে সুস্থ আছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান সদর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খালের পাড় থেকে নবজাতক ছেলে শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল স্থানীয় এক দম্পতি। খবর পেয়ে তাদের কাছ থেকে শিশুটিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে বেবি কেয়ারে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। পরবর্তীতে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
