নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বিশ্বের সকল প্রাণীর হিতসুখ ও মঙ্গল প্রার্থনায় বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের বরুণাছড়ি সার্বজনীন বনবিহারে ৮৪ হাজার মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও স্বধর্ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার মাঘী পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে সাধু সাধু সাধু ধ্বনিতে হাজারো পুণ্যার্থীদের ভক্তি ও শ্রদ্ধায় দিনব্যাপী কর্মসূচির বুদ্ধপুজা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সুত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা, ৮৪ হাজার মঙ্গল প্রদীপ উৎসর্গসহ উল্লেখযোগ্য নানাবিধ দান অনুষ্ঠিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে সমবেত হয় হাজারো পুণ্যার্থী। পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মূখর হয়ে উঠে বিহার প্রাঙ্গণ।
বিশ্বের সকল প্রাণীর হিতসুখ ও মঙ্গল প্রার্থনায় অনুষ্ঠানে প্রথমে বৌদ্ধরতœ উপাধি প্রাপ্ত ও বনভান্তের প্রধাণশিষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন ভক্তরা। পরে উদ্বোধনী ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পঞ্চশীল পাঠ করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য জ্ঞান রঞ্জন চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা প্রতিচার্য্য চাকমা। বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন টিপটিপ চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বসুদেব চাকমা।
বনভান্তের অমৃতময় বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে পুণ্যার্থীদের মাঝে ধর্মদেশনা দেন বোধিরতœ উপাধিপ্রাপ্ত সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে’র প্রধান শিষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির। অন্যান্য ভিক্ষুদের মধ্য ধর্মদেশনা দেন দীঘিনালা বনবিহারের সিনিয়র ভিক্ষু ভদন্ত শ্রীমৎ শুভ বর্ধন মহাস্থবির। এসময় অন্যান্য সিনিয়র ভিক্ষুর মধ্য বরুণাছড়ি সার্বজনীন বনবিহারের বিহার অধ্যক্ষ কুলজ্যোতি ভিক্ষুসহ অন্যান্য প্রমূখ ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন।
স্বধর্ম ধর্মীয় সভায় ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির বলেন, মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্ম রক্ষার্থে বিহারের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি ধর্ম প্রচারে বিহারে ভিক্ষুরও প্রয়োজন আছে। তেমনি বিহার পরিচালনা করার জন্য পুণ্যার্থীদেরও প্রয়োজন আছে। সবকিছু একে-অপরের পরিপূরক। সেক্ষেত্রেও পারিবারিক জীবনে পঞ্চশীলের গুরুত্ব অপরিসীম। শীলের পাশাপাশি দান, শীল-ভাবনা(ধ্যান) করতে হবে। ভাবনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
