খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক ধারাসমূহ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, গত ২৪ বছরে পাহাড়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অভাবনীয় হলেও গত দুই যুগ ধরে পাঁচটি গ্রুপের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডর অভিযোগ রয়েছে। দেশের একই সংবিধানে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছেনা। পাহাড়ে সুযোগ সুবিধায় বাঙালিরা বঞ্চিত। ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রথাগত রীতি অনুসরণের বিধান যুক্ত করায় সেখানে বসবাসরত বাঙালিদের ভূমিহীন ও বাস্তুচ্যুত হবার আশঙ্কায় দিন গুনছে।
আঞ্চলিক সংগঠনগুলো ও তাদের সমর্থকরা বিদ্বেষমূলক ও ঘৃণাব্যাঞ্জক প্রচারণা চালিয়ে দেশি-বিদেশি ইন্ধনে পাহাড়কে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন জুমল্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে চলছে। চুক্তিতে উপজাতি হিসেবে নির্দেশের স্বীকৃতি দিলেও এখন নিজেদের আদিবাসী হিসেবে দাবি করছে।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক ধারাসমূহ সংশোধণপূর্বক পূনঃমূল্যায়ন করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়াও জনসংহতি সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমার অপসারণ, পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্বার ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যাহারকৃত নিরাপত্তবাহিনীর সকল ক্যাম্প পুন:স্থাপনের দাবি করা হয়।
এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, জেলা সভাপতি আব্দুল মজিদ, এসএম মাসুম রানা, মো. সোলেমান, লোকমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
