দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে সাবেক মহিলা সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু ও তার কণ্যার মামলা চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাংবাদিক নেতারা। নেতৃবৃন্দ সংবাদের প্রতিবাদ না দিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি করার জন্য মামলার পাঁয়তারার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করার জন্যই ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের মামলার নামে হয়রানি করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রবীন সাংবাদিক,দৈনিক গিরিদর্পন সম্পাদক ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি একেএম মকছুদ আহমেদ বলেছেন, ‘প্রকাশিত সংবাদে কেউ যদি ক্ষুদ্ধ হন তবে তার উচিত প্রতিবাদ দেয়া। সেটা না করে মামলা বা অন্য কোন উপায়,সঠিক পথ নয়। এইসব বিষয়ে সকলের সহনশীলতা প্রয়োজন।’
খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিতেন বড়ুয়া ক্ষোভের সাথে জানান, সাংবাদিকরা নিউজ করবে; এটা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু মামলা করে তাদের হয়রানি করাটা উচিত নয়। এটা নিঃসন্দেহে বাক স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ। সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করার জন্যই এই মামলা করা হয়েছে। তিনি খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনু জানান, সংবাদপত্রে বা মিডিয়ায় কোন সংবাদ পরিবেশিত হলে তাতে কারো না কারো আপত্তি বা দ্বিমত থাকতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মত ভিন্নতা বা দ্বিমত করার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদের কোন প্রতিবাদ বা গণতান্ত্রিক স্তরকে অগ্রাহ্য করে ভিন্ন পথ অবলম্বন কারো কাম্য হতে পারে না। আমি সকল পক্ষের বোধোদয় প্রত্যাশা করছি এবং বিব্রতকর অবস্থার আশু সমাধান কামনা করছি। আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা যে, সাংবাদিক সমাজ নিজেদের পরিবার-পরিজনের চেয়ে সমাজ এবং রাষ্ট্রের কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মুহম্মদ জানান, সংবাদের কারণে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা কিংবা হয়রানি করার চেষ্টা খুবই দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক। সংবাদে অসত্য তথ্য থাকলে কিংবা সংবাদে মানহানি হয়েছে মনে হলে প্রতিবাদ দেয়ার সুযোগ আছে। যেকোনো সংবাদেরই প্রতিবাদ দেয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু তা না করে মামলা করা মানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা। শুধু ফজলে এলাহী নয়; দেশের যেকোনো স্থানের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা কখনো কাম্য নয়। তিনি খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের হয়রানির বিরুদ্ধে সরকার ও সাংবাদিক নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এই সাংবাদিক নেতা।
রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক বলেন, এলাকায় কোন ঘটনা ঘটলে তা তুলে ধরা সাংবাদিকের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে সাংবাদিকরা ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে, তা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রতিবাদলিপি দেয়া যেতে পারে। ভুল তথ্য দিলে মামলা বা নিবর্তনমূলক কোন কর্মকান্ড গ্রহণ করা উচিত নয়। এমন কর্মকান্ড গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করার সামিল।’
বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হক এই মামলা চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি নিঃসন্দেহে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ। যা কখনো কাম্য নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি। সারাদেশে সাংবাদিকদের বাক স্বাধীনতা হরণ করার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলা করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও তাই করা হচ্ছে। সাংবাদিকরা বারবার নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
