নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ৯ জন ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২২ জন নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি আওয়ামীলীগ। শনিবার পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এইসব বহিষ্কারের তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন- ভাসাইন্যাদম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জিয়াবুল হক, মাইনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য বিল্লাল হোসেন, মনছুর উদ্দিন ভূইয়া, কুতুব উদ্দিন, ভাসাইন্যাদাম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আছর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুচ্ছফা, লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা নুর মোহাম্মদ, সদস্য মো. গাউছ আলম এবং রফিকউদ্দিন মেম্বার। এদের সবার বিরুদ্ধে ‘দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার অভিযোগে এই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস আল মামুন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ২২ নেতাকে সংগঠন থেকে একই অভিযোগে অব্যাহতি দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই উপজেলায় অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ, আমতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ও বিদ্রোহী প্রার্থী সুলতান আহমেদ, উপদেষ্টা মমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ও বিদ্রোহী প্রার্থী মজিবুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর সোবহান,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক কবির হোসেন, সদস্য শফিউল্লাহ কারিগর, আব্দুল মালেক, বাবর আলী, আমতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সহ-সভাপতি মনির হোসেন, ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতি জাহেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মিয়া, সদস্য আসাদ মিয়া, সদস্য আমিরুল ইসলাম, বাঘাইছড়ির খেদারমারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. ওসমান, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিমন দে, ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ইমরান হোসেন, সদস্য সাইফুল ইসলাম।
লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান করে দলের মধ্যে বিভেদ ও বিভ্রান্তি তৈরি এবং দলীয় সংহতি নষ্ট করায় এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অব্যাহতির চিঠি জেলাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য।’
বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আল মামুন জানিয়েছেন, দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় এদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কাগজপত্র জেলায় পাঠানো হবে। ’
এর আগে লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার, সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিমসহ সেই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে বিদ্রোহী হওয়া ছয় প্রার্থীকে অব্যাহতি দিয়েছিলো রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ। সেই হিসেবে এই উপজেলায় এখন অবধি অব্যাহতি পেলেন ১৭ জন নেতা। আর বাঘাইছড়িতে অব্যাহতি পেলেন ২২ জন। অর্থাৎ সপ্তম দফার ইউপি নির্বাচনে রাঙামাটির এই দুই উপজেলায় আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দলীয় পদ হারালেন ৩৯ জন নেতা।
