লংগদু প্রতিনিধি ॥
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে চেতনানাশক ঔষুধ খাইয়ে স্বর্ণলংকার নিয়ে পলাতক ভন্ড কবিরাজ। বুধবার সকালে উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ছোট মাহিল্লা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। পরে প্রীতিলাল তালুকদার কার্বারি (৬০), চন্দ্র মিত্র তালুকদার (৩০), জোনাকি চাকমা (২৮), স্মরণীয় চাকমাকে(১৪) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য।
ওয়ার্ড মেম্বার মো. খোকন জানান, বুধবার সকাল ৮ টার দিকে প্রীতিলাল কার্বারির ভাই সুরলাল চাকমা (দোকনাদার) আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে আমি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করি। পরে ফাঁড়ির পুলিশসহ তাদের বাসায় গিয়ে সবাইকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে তাদের লংগদু হাসপাতালে প্রেরণ করি।
লংগদু হাসপাতালে দুপুর পর্যন্ত কারো জ্ঞান ফিরেনি। তবে বিকেলে চন্দ্র মিত্র তালুকদার (৩০) জ্ঞান ফিরে। তিনি জানান, আমার বিয়ের পাঁচ বছরেও কোন সন্তান হয়নি। সন্তানের জন্য অনেক টাকা খরচ করেছি। বিভিন্ন কবিরাজের কাছেও গিয়েছি। গত রবিবার কাশেম নামের একজন বয়স্ক কবিরাজ আমাদের বাড়িতে আসে। তিনি পূর্ণের জন্য বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষের উপকার করে থাকেন। আমাদের সন্তান নেই সে বিষয়টি ওনি আগে জানতেন। তার কবিরাজি চিকিৎসায় আমাদের সন্তান হবে, শুনে আমরা তার কথায় চিকিৎসা নিতে রাজি হয়। ওনি আমাদের ছয় বাড়ি ছয় ভরি স্বর্ণলংকার জোগাড় করে রাখতে বলেন। ওনি পরেরদিন আমাদের চিকিৎসার জন্য আমাদের বাড়িতে আসেন। একটি পাত্রে স্বর্ণালংকার ভিজিয়ে রেখে তার পানি আমাদের স্বামী স্ত্রীকে খেতে দেয়। সেগুলো খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ি। আমার বাবা ও ভাতিজার কি হয়েছে তা আমরা এখনো জানি না। সকালে ঘুম থেকে আর উঠতে পারছি না। মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাচ্ছি বারবার। যে পাত্রে স্বর্ণালংকার ভিজানো ছিলো, পাত্রটি আছে স্বর্ণালংকার নেই সেখানে। পরে আর কিছুই জানি না। এখন শুনি আমরা নাকি লংগদু হাসপাতালে।
লংগদু থানার এসআই শাহাবুর আলম বলেন, যেহেতু রোগীর এখনো জ্ঞান ফিরেনি। তাই তাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলা যাচ্ছে না। তারা সুস্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে লংগদু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, তাদের চেতনানাশক ঔষুধ খাওয়ানো হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য আরো ৪৮ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে।
