বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে চাঁদাবাজ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার’রাতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ঘেরাও ভিতর পাড়া এলাকায় সশস্ত্র চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা অবস্থানের খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ জনের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। এসময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় পনের মিনিট গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় দু’পক্ষের গোলাগুলিতে ক্যচিং অং মারমা (১৫) নামে এক যুবক বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী’সহ স্থানীয়রা আহত যুবককে উদ্ধার করে রোয়াংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখান থেকে এ্যাম্বুলেন্সে যুবককে বান্দরবান সদর হাসপাতালে আনা হয়। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত ক্যচিং ঘেরাও ভিতর পাড়ার বাসিন্দার হ্লানুং মারমার পুত্র।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফুল ইসলাম জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে চাঁদাবাজ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে আহত গুলিবিদ্ধ একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার নাম ক্যচিং অং মারমা (১৫)। এ ঘটনা এখনো কোনো মামলা হয়নি।
পিসিপি’র বিবৃতি
এদিকে ইউপিডিএফ সমর্থিত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এক বিবৃতিতে বান্দরবানে ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ক্যসিংমং মারমার মৃত্যুকে ‘ গুলি করে হত্যা’ দাবি করে এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের অন্যতম দৃষ্টান্ত বলে নেতৃদ্বয় মন্তব্য করেছে।
সংগঠনটির সভাপতি বিপুল চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক সুনয়ন চাকমা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ক্যসিংমং মারমা ‘হত্যাকান্ডে’ জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
