খাগড়াছড়িতে সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলা অবস্থায় রোলারের চাপে পৃষ্ট হয়ে জাফর আলী(৬০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পর্বত আলী নামে(৪০) নামে আরো এক শ্রমিক আহত হয়েছে।
শনিবার(০৮ মে) দুপুরে শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরি হতাহতের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষনা করেন। অপরজন খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
দুপুরে শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। পাহাড়ী উচুঁ সড়কে রোলার দিয়ে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় রোলারটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পেছনে পেপার মেশিন নিয়ে কাজ করা অন্য শ্রমিকদের চাপ দেয়। এসময় রোলার চালক পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরি অন্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক জাফর আলীকে মৃত ঘোষনা করেন। আহত পর্বত আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী। তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির সাথে কথা বলে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন বলে জানান।
ওসি মোহাম্মদ রশিদ জানান, এই ঘটনায় হতাহত পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা না করার কথা জানানো হয়েছে।
ইউজিপ প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি গেইট থেকে ভাঙ্গাব্রীজ পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ ও ডাবল লেন উন্নতিকরণ প্রকল্পের কাজটি করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেলিম এন্ড ব্রাদার্স।
তবে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম এন্ড বার্দাস এর সত্তাধিকারী মোঃ সেলিম এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এতবড় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজের ক্ষেত্রে শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়ায় অনেকে ক্ষোভ জানিয়েছেন।
খাগাড়ছড়ির সিনিয়র সাংবাদিক ও সংগঠক মুহাম্মদ আবু দাউদ জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকজন বড় ঠিকাদারের মধ্যে মোঃ সেলিম একজন। কোটি কোটি টাকার কাজ করে গেলেও তিনি কখনো শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি দেখেননি। শ্রমিকদের স্বার্থও কখনো বিবেচনা করেন না। এর আগে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সেলিম ট্রেড সেন্টারের ছাদ থেকে শ্রমিক পড়ে গুরুত্বর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিলেও কখনো খোঁজ খবর নেননি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো বহু অভিযোগ রয়েছে।
