জিয়াউল জিয়া ॥
সাফজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে ঘর তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেয়ার পর ইতোমধ্যে ঘর তৈরি উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ঘর তৈরির নির্দেশনা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দ্রুত ঘর তৈরির উদ্যোগের নির্দেশ দেন।
রূপনা চাকমা নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে পাহাড়ের মদো দৃঢ়তায় বাংলার গোলপোস্ট সামলেছেন তিনি। হয়েছেন সেরা গোলকিপারও। তবে ঠিক বিপরীত তার বেড়ে ওঠা আর মাথা গোঁজার ঠাঁইটি। নানিয়রাচর উপজেলার দুর্গম ভুঁইয়াদাম গ্রামে তার ঘরটির জরাজীর্ণ অবস্থাই বলে দিচ্ছে, কতটা সংগ্রামের পথ মাড়িয়ে এতদূর উঠে এসেছেন এই দামাল কন্যা। সেই ঘরজুড়ে এখন রূপনার সাফল্যের আলো যেন ঠিকরে পড়ছে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রূপনা চাকমার ঘরটি নির্মাণ করার জন্য। আমি ইতোমধ্যে নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা দিয়েছি। আজ(বুধবার) বিকেলে এলজিইডি প্রকৌশলী নিয়ে ঘর নির্মাণের বিষয়ে সরেজমিন দেখে আসবেন। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা এটি করে দিতে পারবো।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে সাফজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সদস্য রূপনা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমাদের সাফল্যে রাঙামাটি জেলা প্রসাশক আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে তাদের বাড়িতে মিষ্টি ও ফলমূল নিয়ে উপস্থিত হন। একই সাথে তাদের বাড়িতে যাওয়া পথ তৈরি ও পাকা সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার কথাও জানানো হয়। দুইজনের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
মেয়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি কথা রূপনা চাকমার মা কালাসোনা চাকমা কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমার মেয়ে যে আজ দেশ পেরিয়ে বিদেশে খেলতে গেছে আমার খুব ভালো লাগতেছে আমি খুব খুশি। আমার মেয়ে শান্তিময় ও বীর সেনের সহযোগিতায় এতদূর এগ্রিয়ে গেছে। মেয়ের খেলা আমি মোবাইলে দেখেছি। খেলা শেষে মেয়ে ভিডিও কলে আমাকে কাপ দেখিয়ে বলে মা অনেক কষ্টের বিনিময়ে এটা পেয়েছি। আমার মেয়ে রুপনা খেলায় জিতে আমি যে খুশি যা বলে বুঝাতে পারবো না। গর্বে আমার বুক ভরে যাচ্ছে।
ঋতুপর্ণার মা বসুবতি চাকমা বলেন, আমরা রাতে মোবাইলে শুনেছি বাংলাদেশ জিতেছে। শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। আমার মেয়ে দেশের জন্য ভালো খেলেছে তাতে আমিসহ গ্রামবাসী আনন্দিত।
