নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় রুমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এবং পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বাকবিত-া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা আহত হয়ে রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুমায় কয়েকবছর আগে নারী ইউপি সদস্যকে চেয়ারম্যান লাথি মারার একটি ভয়েস রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুনরায় ফাঁস বা পোস্ট করা নিয়ে রুমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা এবং পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইলু কথাং বম আওয়ামীলীগের এ দু’নেতা বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। বাকবিত-ার একপর্যায়ে রুমা বাজার সংলগ্ন পাড়ার বাসিন্দার ক্যসিহ্লা মারমার বাড়িতে তর্ক হাতাহাতি এবং মারামারিতে রুপ নেয়। স্থানীয়রা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে এরা দুজনই সম্ভাব্য প্রার্থী। আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দুজনের মধ্যে দৌঁড়ঝাপও চলেছে বহুদিন ধরে।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বছরকয়েক আগে পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়নের একজন নারী মেম্বারকে লাথি মারার ঘটনা ঘটেছিলো। বিচার সালিশে বিষয়টি তখন সমাধানও হয়েছিলো। কিন্তু ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন পর সেই ঘটনা ভয়ের রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি গ্রুপে পোস্ট করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পাইন্দু ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও রুমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি উহ্লামং মারমা ঘটনাটির জন্য পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইলু কথাং বম’কে দায়ী করেন। বিষয়টি নিয়ে আগামী নির্বাচনে পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ভিতরে ভিতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলের বাড়ির মালিক ক্যসিহ্লা মারমা বলেন, রাতে দশটার দিকে পাইন্দু চেয়ারম্যান উহ্লামং আওয়ামীলীগনেতা সাইলু কথাং বম’কে ফোন করে কোথায় আছে জানতে চান। তারপর ঘটনাস্থলে এসে ফেসবুকে ভয়েস শেয়ার করা নিয়ে উচ্চ স্বরে বকাবকি করেন। আমি দুজন’কে শান্ত হয়ে বাড়ির বাহিরে গিয়ে কথা বলার অনুরোধ করি। তারপর তারা বাড়ির পাশে মাচাংঘরে বসে তর্কাতর্কি এবং হাতাহাতির সময় মাচাং ভেঙে ৫/৭ জন একসাথে পড়ে যায়। লেগে যায় মারামারিতে উভয়। সংঘর্ষে উভয় আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে চেয়ারম্যান উহ্লামং আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইলু কথাং বম বলেন, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটির জন্য চেয়ারম্যান দায়ী। সে আমায় ফোন করে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা করেছে। আমি ফেসবুকে কোনো ভয়েস রেকর্ড শেয়ার করিনি, বিষয়টি চেয়ারম্যানকে বহুবার বলেছি। কিন্তু চেয়ারম্যান আইনের আশ্রয় না নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে আমার উপরে হামলা করেছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান উহ্লামং বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রমূলক পুরনো ভয়ের রেকর্ড ফেসবুকে ছেড়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমার উপরে হামলা করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম জানান, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
