রামগড় প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ির রামগড়ে অনুমোদনহীন করাতকলে উজাড় হচ্ছে বনের গাছ। এসব করাত কল স্থাপন করা হয়েছে রাস্তার পাশে আবাসিক ও বনাঞ্চল এলাকায়। করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্স নবায়ন না করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে চারটি করাতকলের মালিককে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করে।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত এই প্রসঙ্গে বলেন, লাইসেন্স ছাড়া করাতকল পরিচালনা এবং করাত কলে ক্রয়কৃত ও বিক্রিত কাঠ ও অন্যান্য বনজদ্রব্যের উৎসের উল্লেখসহ ক্রয়-বিক্রয় এবং চেরাই’র হিসাব সংরক্ষণ না করায় করাত-কল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২ এর দন্ড ১২ বিধি মোতাবেক কাজী স মিল, কাসেম স’মিল, ফয়েজ স’মিল এবং ভুইয়া স’মিলকে জরিমানা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামগড়ে করাতকলের সংখ্যা ২৩টি। এরমধ্যে অধিকাংশেরই লাইসেন্স নেই আবার কোনটির থাকলেও নবায়ন হয়নি দীর্ঘদিন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানায় এসব করাত কল থাকায় এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান হয় না বললেই চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি বলেন, গত এক যুগেও করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযানের খবর শোনা যায়নি। তবে সম্প্রতি অভিযান হলেও মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।
বন ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী, বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের নিয়ম নেই। কিন্তু এখানে বনাঞ্চলের পাশেই করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায় বাজার এলাকা, তৈছালাপাড়া, নজিরটিলা, পাতাছড়া, নাকাপা, সোনাইপুল, কালাডেবা এলাকায় করাত কল বসানো হয়েছে। এগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ, লতা-গুল্ম। বনের ওপর নির্ভরশীল বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পানির উৎস কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।
ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোশারফ জানান, তাঁরা বৈধভাবে কাঠের ব্যবসা করেন। অবৈধ কাজে জড়িত নন।
রামগড় করাতকল সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির মিয়া জানান, তার করাতকলের লাইসেন্স আছে। অনেকের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।
রামগড় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আজিম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বপ্রদীপ কুমার কারবারি বলেন, অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিরোধে প্রশাসন সক্রিয়। বৈধভাবে ব্যবসা করতে অসুবিধা কোথায়। লাইসেন্স না করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি গুরুতর অপরাধ। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
