মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি ॥
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে গত এক মাস ধরে মিয়ানমারের ভিতরে প্রচুর গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে গোলাগুলির কারণে এপারের কৃষকরা ভয় ও আতংকে নিজের চাষকৃত জমিতে গিয়ে দেখাশুনা করতে পারছেন না এবং বাঁশ, কাঠ কেটে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন না। ফলে পাহাড়ি-বাঙালি কৃষকরা তাদের সবজি ক্ষেত ও চাষকৃত ধানীয় জমি নিয়ে পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়। এভাবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গোলাগুলি চলতে থাকলে সীমান্ত ঘেঁষা ফসলেই পঁচে যাবে শত শত হেক্টর কৃষি জমিতে রোপনকৃত ধান। ইতিমধ্যে আতংকগ্রস্থ হয়ে কৃষি কাজ বন্ধ রেখে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন জুম চাষিরা।
এ বিষয়ে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ফয়েজ উল্লাহ, মো. কাশেম, সোনামিয়াসহ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড়ে মৌসুম ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে পরিবারের জীবিকার নির্বাহ করতেন। কিন্তু চলমান মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আচরণে প্রাণের ভয়ে সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড় যেতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
জুমচাষী ফয়েজুর রহমান জানান, সীমন্ত সংলগ্ন পাহাড়ে তিনি জুম চাষ করেছেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে তার জুমে যাওয়া সম্ভব হয়নি গুলির আতংকে। বর্তমানে তিনি পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ জানিয়েছেন, প্রায় মাসখানেক ধরে সীমান্তে মিয়ানমারের ভিতরে গোলাগুলি চলমান রয়েছে। যা এখনো বন্ধ হয়নি। ফলে সীমান্তের কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। কৃষকদের জীবিকাই চলে কৃষি কাজের মাধ্যমে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সীমান্তবাসীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার পরামর্শ সহ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের আতঙ্কগ্রস্ত না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
