রাঙামাটি শহরের শনিবার সকালে ছুরিকাঘাতে নিহত তরুন ইজাবুল হক রাব্বির খুনি সেলিম মাহমুদকে আটক করেছে পুলিশ।
বিকাল তিনটায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে এই আটকের কথা জানিয়েছে রাঙামাটি জেলা পুলিশ।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ট্র্যাকিং করে আমরা খুনিকে চিহ্নিত করতে পেরেছি এবং ঘটনার সাড়ে পাঁচ ঘন্টার মধ্যেই খুনিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আসামীর দেয়া তথ্যমতে নিহত রাব্বীর সাথে তাঁর পূর্বপরিচয় এবং বন্ধুত্ব ছিল। আসামী সেলিম মাহমুদ নিহত রাব্বীর কাছে টাকা পাওনা ছিল। গতরাত আড়াইটার সময় বনরুপা ফরেস্ট রোড কবরস্থানের সামনে রাব্বী এবং সেলিমের মধ্যে টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নিহত রাব্বি আসামী সেলিম মাহমুদকে মারধর করে। ঘটনার পর আসামী তার বাসায় চলে যায়। পরে শনিবার ভোরে রাব্বি আসামী সেলিমকে ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এবং তাদের মধ্যে পুনরায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সেলিম রাব্বিকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই রাব্বির মৃত্যু হয়।
এসপি বলেন, বনরূপার মত শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই ঘটনাটি আমাদের জন্যও বিব্রতকর হয়ে দেখা দেয়,খুনিকে চিহ্নিত করার চ্যালেঞ্জে মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘন্টাতেই আমরা সফল হয়েছি। পুলিশের চারটা টীম পৃথকভাবে নেমে সকাল আটটা থেকেই অপারেশনে নামে এবং খুনকে চিহ্নিত করে বনরূপা এলাকা থেকেই গ্রেফতার করেছে। এই হত্যাকান্ডের পেছনে টাকা ছাড়া মাদক কিংবা অন্য কোন কারণ আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখব আমরা।’
সংবাদ সম্মেলনে এএসপি মারুফ হাসান ,ওসি আরিফুল আমিন সহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আটক সেলিম বনরূপার একটি রেস্টুরেন্টে বয় হিসেবে কাজ করে এবং তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তার পিতার নাম মোঃ মাহমুদ। আর নিহত রাব্বি ২০১৮ সালে মাদক আইনে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছিলো।
এর আগে সকালে বনরূপার ফরেস্টরোডে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

