আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের প্রার্থী চুড়ান্ত না হলেও বড় এই দুই দলের প্রার্থী নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের পক্ষে একক প্রার্থী হিসেবে দীপংকর তালুকদারের নাম শোনা গেলেও বিএনপিতে প্রার্থী নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। এই দলের খোদ জেলার শীর্ষ নেতারাই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কে হচ্ছেন বিএনপি’র প্রার্থী। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী মোঃ শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পনির, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নেতা এড. দীপেন দেওয়ান ও কর্নেল (অবঃ) মনীষ দেওয়ানসহ ৯জন দলের পক্ষে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে বিএনপি’র প্রার্থী দীপেন ও মনীষকে ঘিরে নানা আলোচনা চললেও হঠাৎই বিএনপি’র সাবেক সাংসদ মণিস্বপন দেওয়ান মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার পর সব হিসেব নিকেষ উল্টে গেলো। ফলে দলের মধ্যে নতুন করে সমস্যা দানা বাঁধে। ইতোমধ্যে এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পক্ষে সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান দেয়া হয়-তাঁকে মনোনয়ন না দিলে এক যোগে তাঁর অনুসারীরা পদত্যাগ করবেন। সকালে দীপেনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত মেনে নিবেন বলে জানান দেন জেলা নেতাদের পক্ষের আরেকটি অংশ।
জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার সকালে যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে সেখানে দায়িত্বশীল কেউ ছিলনা। যারা করেছে তারা না বুঝেই করেছে বলে মনে করছি। কেন্দ্রীয় বিএনপি যেই সিদ্ধান্ত দিবে বা যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষেই জেলা বিএনপি কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দীপেনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জেলা বিএনপি’র পরিবেশ ও পল্লী বিষয়ক সম্পাদক আলী আকবর জানান, দীপেন দেওয়ান মনোনয়ন না পেলে পদত্যাগের বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় সাংবাদিকরা ভুল ছাপিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই ধরনের কথা আমরা বলিনি। দীপেন দেওয়ান ঢাকা থেকে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর দেখা যাবে ওই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব কি করব না। তবে প্রার্থী হিসেবে ‘হাওয়া থেকে পাওয়া’ কিংবা ‘অতিথি পাখি’ কাউকে মেনে নিবেন না বলে জানান তিনি।
জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের কাছে তাঁর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আপাতত কিছু বলতে চাইনা। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কাছে মনোনয়নের ব্যাপারে সাক্ষাৎকার দিয়েছি। দল থেকে সিদ্ধান্ত দেয়ার পরেই করণীয় ঠিক করব। আপাতত এসব বিষয়ে কিছু বলতে চাইনা।
প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে যখন সিদ্ধান্তহীনতা কিংবা দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছে বিএনপি; তখন একক প্রার্থী নিয়ে দলীয় নির্বাচনের জন্য নিজেদেরকে আরো ঝালিয়ে নিচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর জানান, দলে কোনো কোন্দল বা গ্রুপিং নেই। আমরা সবাই দীপংকর তালুকদারের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ এবং তিনিই আমাদের একক প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে সবাই একযোগে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
