শংকর হোড় ॥
পাহাড়ের মাটিতে আদিকাল থেকেই চাষ হয়ে আসছে কলা। আগে পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে কলার উৎপাদনের ওপর কৃষকরা নির্ভরশীল হলেও সময়ের ব্যবধানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ছে কলাচাষ। জুমপাহাড়ের অন্যান্য ফসলের সাথে সাথী ফসল হিসেবে কলাচাষ বাড়ছে। পাহাড়ে মাটিভেদে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হয়। এ এলাকায় কলা আবাদে কীটনাশক ব্যবহার হয় না বললেই চলে। রাঙামাটির কৃষি অর্থনীতিতে কলার ভূমিকা ব্যাপক। কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাঙামাটিতে প্রতিবছর শত কোটি টাকার কলা বেচাকেনা হয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, পাহাড়ে কয়েক ধরনের কলাচাষ হলেও বেশিরভাগ দুই জাতের কলা বেশি দেখা যায়। একটি বাংলা কলা। স্থানীয় ভাষায় এর নাম কাট্টলি কলা। অন্যটি চাঁপা কলা, যার স্থানীয় নাম চম্পা কলা। উঁচু পাহাড়ের মাটিতে জন্মায় বলে এগুলোকে পাহাড়ি কলাও বলা হয়। এছাড়া সাগর কলাসহ আরো বেশ কিছু জাতের কলা চাষ হয়। পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় চাঁপা কলার চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয় বাংলা কলা। আর পাহাড়ে বাংলা কলারই চাষ বেশি হয়ে থাকে। পাহাড়ের মাটিতে এসব কলা আপনাআপনি বেড়ে ওঠে। তেমন পরিচর্যারও প্রয়োজন পড়ে না। শুধু কলা চারার আশপাশে জঙ্গল পরিষ্কারসহ মরা পাতা ও অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলে দিলেই হয়। কম পরিশ্রম ও অধিক মূল্যের কারণে কলাচাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। সারা বছর কলার ফলন পাওয়া গেলেও আগস্ট থেকে নভেম্বর মাসে ফলন মেলে সবচেয়ে বেশি। এ সময় পাওয়া কলাগুলো আকারেও হয় বড়।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে এ জেলার ১১ হাজার হেক্টর এলাকায় কলার আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার টন। ওজন বিবেচনায় উৎপাদিত কলা প্রতি ছড়া গড়ে ১০০টাকা হিসেবে বিক্রি করলে বছরে শতকোটি টাকা ব্যবসা হচ্ছে।
ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন বলেন, রাঙামাটির পাহাড়ি কলা মান ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধি হওয়ায় এই কলার চাহিদা বেশি। তাইতো প্রতিমাসে রাঙ্গামাটি থেকে ২-৩ট্রাক কলা ঢাকায় নিয়ে যায়। তিনি জানান, সাইজ ভেদে প্রতি ছড়া কলার দাম ৫০ টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত ক্রয় করতে হয়।
বালুখালী থেকে কলা নিয়ে বনরূপার সমতা ঘাটে কলা বিক্রি করতে আসা কৃষক আনন্দ মোহন চাকমা বলেন, গতবছর যে দাম পেয়েছি, এবছর সে দামটা পাচ্ছি না। লোকসান দিয়ে কলা বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা জানান, কলার ওজনের কারণে পাহাড়ে উৎপাদিত কলা বাজারে নিয়ে আসা কষ্টসাধ্য ও খরচসাপেক্ষ। তারপরও অন্যান্য বছর যে লাভটা হয়, এবার সেটা পায়নি।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তপন কুমার পাল বলেন, পাহাড়ে এই বছর ১১ হাজার হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য শতকোটি টাকা। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে মাটিভেদে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হয়। এ এলাকায় কলা আবাদে কীটনাশক ব্যবহার হয় না বললেই চলে। কলা এমনিতেই পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল। তার ওপর বালাইনাশক ব্যবহার না হওয়ায় এ এলাকার কলা পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ।
