সাগর চক্রবর্তী কমল, মাটিরাঙ্গা ॥
মাটিরাঙ্গা উপজেলাতে এই প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষেই বদলে গেছে পুরো এলাকার দৃশ্যপট। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে।
সূর্যমুখী অতি পরিচিত একটি ফুল। এর তেল মানে-গুণে অনন্য। সারাবিশ্বেই এর ব্যাপক চাহিদা থেকে এদেশেও বাণিজ্যিকভাব সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয় ষাটের দশকে। তেলের উৎস হিসেবে পৃথিবীতে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ফুলের সাথে সখ্যতা গড়তে বাগান এলাকায় দেখা যায় পথচারীরার আনাগোনা এবং ছবি তুলে পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নে গড়গড়িয়া এলাকায় গেলেই দেখা মিলে দৃষ্টিনন্দন হলদে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। দেখলে মনে হয় যেন সূর্যেও হাসি হাসছে সূর্যমুখী ফুলগুলো। পরীক্ষামুলক চাষেই সফলতা পেয়ে কৃষক মো: তুরুমিয়া মুখে যেন স্বস্তির হাসি।
জানা যায়, গোমতি ইউনিয়নে গড়গড়িয়া এলাকার কৃষক মো: তুরুমিয়া সাজিয়েছেন এই বাগান। তুরুমিয়া জানায়, আমার সহধর্মিনী থেকে দিয়েছে সাহস আর শ্রম। এবার পরীক্ষামূলকভাবে ৩৩ শতক জায়গায় চাষ করেছি। আমার কম টাকা খরচ হয়েছে। তাই লাভবানের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিসার- বীজসহ সব ধরণের সহযোগিতা দিলেও মনে কাজ করছিল ভয়। সেই ভয়কে জয় করে প্রতিটি গাছে গাছে এখন শোভা পাচ্ছে বিশালাকার সাইজের সূর্যমুখী ফুল। রাস্তার পাশে দৃষ্টিনন্দন বাগান আর সূর্যমুখী ফুলের বুক চিরে উড়ে বেড়ানো মৌমাছির মৌ মৌ শব্দ দারুণভাবে উপভোগ করে পথচারীরা।
ভোজ্য তেলের ঘাটতি মিটাতে কৃষকদের মাঝে সূর্যমুখী ফুলের চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরী করা হচ্ছে বলে জানায় কৃষি অফিসার। মাটিরাঙ্গা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: জয়নাল আবেদীন জানান, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রনোদনার মাধ্যমে ৫০ জন কৃষকের মাঝে সার ও সূর্যমুখী ফুলের বীজ প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমানে মাটিরাঙ্গা উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের ৫০ জন কৃষকের জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ হচ্ছে। কৃষকদের মাঝে প্রচুর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আগামিতে আবাদি জমির পরিমান আরো বাড়বে।
