জিয়াউল জিয়া
বরকলের ভূষণছড়ায় গণহত্যার ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে।
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপি এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ সাবের, সহ- সভাপতি কাজী মোঃ জালোয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিঃ সহ-সভাপতি মোঃ হাবিব আজম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, স্বাধীন দেশে পাকিস্তানীদের মতো ভূষণছড়ায় ঘুমের মধ্যে তৎকালীন শান্তি বাহিনীর নেতৃত্বে চার শতাধিক নীরিহ বাঙালী নারী-পুরুষকে হত্যার পরও দীর্ঘ দিন বিচার হওয়ায় হাতাশায় পরিবারগুলো। অবিলম্বে ভূষণছড়া গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল হত্যাকান্ডের বিচারের জোর দাবী জানান নেতৃবৃন্দরা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ সাবের বলেন, ১৯৮৪ সালের এই দিনে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার তৎকালীন শান্তি বাহিনীর নেতৃত্বে নির্মমভাবে ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে নারী-শিশুসহ চার শতাধিক নীরিহ বাঙালী নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। সেই গণহত্যা দীর্ঘ ৩৭ বছরেও বিচার পায়নি নিহতদের স্বজনরা। এ ঘটনায় আহত হয় সহ¯্রাধিক বাঙালি। ঘুমের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় শতাধিক পরিবার। আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি করছি।
সভায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা গণহত্যায় নেতৃত্বদানের অভিযোগে মেজর রাজেশের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন দাবিও জানানো হয়।
নিহতের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটিতে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে হত্যাকারিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছে পাহাড়ের বিভিন্ন সংগঠনগুলো।
