পানছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার পূজগাং এলাকার প্রজ্ঞা সাধনা বিহারের অধ্যক্ষ অগ্রজ্যোতি মহাস্থবির ভান্তে-কে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা রবিবার আনুমানিক রাত ১২টার দিকে বিহারের অধ্যক্ষ ভান্তেকে দা দিয়ে মাথায় কোপ এবং শাবল দিয়ে পিঠে আঘাত করে টাকাপয়সা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার সাথে অজ্ঞাতনামা দুইজন বাঙালির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন অগ্রজ্যোতি মহাস্থবির ভান্তে।
তিনি জানান, কয়েকদিন আগে দুইজন বাঙালি ব্যক্তি মোটর সাইকেলে করে এসে বিহার ঘুরে ফিরে দেখে যায়। ঘটনার দুইদিন আগে মোটরসাইকেলে করে আবার বিহারে আসে। এসে বিহারে ভান্তেদেরকে খাবার-দাবার দান করতে আসা একজন মহিলা দায়িকাকে ভান্তে কোথায় থাকে, ঘুমায়, খায় ইত্যাদি জিজ্ঞাস করে। জেনে চলে যায়। দায়িকা মহিলা, আমাকে ঘটনা জানান। এরপর গতকাল গরমের কারনে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাইরের লাইট জ্বালিয়ে, ভিতরের লাইট অফ করে জানালা খুলে দিয়ে ঘুমাতে যাই। ঘুম ঘুম ভাব আসার একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে শব্দ পেয়ে জেগে উঠি। দেখি দুইজন লোক দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকছে। আমি আত্মরক্ষার উপায় খুঁজতেছিলাম। তারা আমাকে দা দিয়ে কোপ ও শাবল দিয়ে আঘাত করে বিহারের শুভাকাঙ্ক্ষীদের দান করা আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার থেকে লাখখানেক টাকাপয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, ঘটনার পর মোবাইলে স্থানীয় দায়ক-দায়িকা ও বিহার পরিচালনা কমিটির লোকজনদের জানাই। তারা আমাকে উদ্ধার করে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আক্তারুজ্জামান জানান, রাত ১টা ২০ মিনিটে আহত বিহার অধ্যক্ষকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে, উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা তাঁকে রাত আড়াইটার দিকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করি।
ঘটনার সত্য নিশ্চিত করে পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোসেন জানান, আমরা ঘটনাটি শুনেছি এবং কাজ শুরু করেছি। থানায় অভিযোগ এলে, আইন অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নিবো।
এদিকে বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার চেষ্টা ও বিহার লুটপাটের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংক্ষুব্ধ দায়কদায়িকা ও এলাকাবাসী। এসময় তারা বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যা চেষ্টার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।
