জিয়াউল জিয়া
খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি যেহেতু আওয়ামীলীগ করি, তাই আমি চাইতে পারি স্কুলে কলেজের ছেলেরা ছাত্রলীগ, যুবলীগ করুক। কিন্তু আমি মনে করি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আর আপনারাও কোন রাজনৈতিক কর্মীকে তৈরি করার জন্য শিক্ষকতা করবেন না। শিক্ষকতা করবেন ভালো ও সৎ মানুষ গড়ে তোলারা জন্য।
রাঙামাটিতে ৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন জাতীয়করণকৃত শিক্ষকবৃন্দ। শনিবার সকালে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার আরও বলেন, পুজনীয় বনভান্তে বলেছিলেন রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ হবে। এটা বলার অনেক বছর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ দিয়েছেন। কিন্তু একটি গোষ্ঠি এই কলেজ উদ্বোধন হওয়ার সময় বাধা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছার কারণে রাঙামাটিবাসী এই কলেজ বিশ^বিদ্যালয় পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাছরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের সদস্য অংসুছাইন চৌধুরী, প্রিয়নন্দন চাকমা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, পাহাড় প্রতিটি বিষয় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করেন। পাহাড়ে চিকিৎসা সেবা উন্নত করার জন্য মেডিকেল কলেজ ও উচ্চ শিক্ষার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছেন। একই সাথে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ে দুর্গম এলাকায় পিছিয় পড়া জনগোষ্ঠি এর মাধ্যমে শিক্ষিত হয়ে দেশে ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। আপনাদের হাত ধরে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়টি একটি মডেল বিদ্যালয় হয়ে উঠবে এমনটি প্রত্যাশা। আপনার শিশুদের সু-নাগরিক তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন।
জেলা পরিষদের সদস্য অংসুছাইন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আপনাদের স্কুল সরকারি হয়েছে বলে মাঠে ঘাটে মিছিল করতে হবে না। কিন্তু জননেত্রীর দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিতে চান তার সকল কাজে সহযোগিতা করতে হবে। একই সাথে পাহাড়ে নির্বাচন আসলে অবৈধ অস্ত্রধারীরা ভোট ডাকাতি করে। সেই ভোট ডাকাতি আপনাদের প্রতিহত করতে হবে।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরীর বলেন, পাহাড়ে শান্তির জন্য শান্তি চুক্তি করা হয়েছে। এর ফলে জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ হয়েছে। পাহাড়ের ছেলে মেয়েদের চাকরির জন্য ঢাকায় কম যেতে হয়। এছাড়া নানা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে পাহাড়ের স্থানীয় নাগরিকরা।
তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, আমরা যুদ্ধ চাই না। শান্তি অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। আর রাঙামাটিতে যেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে এবং দীপংকর তালুকদার ছাড়া রাঙামাটির উন্নয়ন সম্ভব না। আগামী নির্বাচনে পোলিং অফিসার হিসেবে আপনাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। দুর্গম এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারীরা ব্যালট ছিনিয়ে নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে কেউ ব্যালট ছিনতাই করতে না পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে পাহাড়ে ২১০টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। যার মধ্যে রাঙামাটিতে ৮১টি বিদ্যালয় রয়েছে। ২০১৭ সালে জাতীয়করণ হলেও আত্মীকরণ করা হয় ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল মাসে।
