নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার পর লংগদু উপজেলাতেও ১৪৪ ধারার মুখে পড়ল। আগামীকাল সোমবার সকালে লংগদু উপজেলার মাইনী বাজারে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ স্থলে রবিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আকস্মিক কর্মসূচী ঘোষণা করে লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগ। ফলে দুই দলের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি পরিস্থিতি এড়াতে রবিবার রাতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলছেন, উভয় দলই একইস্থানে কর্মসূচী ঘোষণা করায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ঠিকঠাক রাখতেই আমাদের ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতিও ১৪৪ ধারা জারির খবর প্রশাসন ইতোমধ্যেই তাকে জানিয়ে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
তবে প্রশাসনের এই নির্দেশনাকে ‘অগনতান্ত্রিক’ ও ‘স্বেচ্ছাচারি’ বলছেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল। তিনি বলছেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচীর বিষয়ে প্রশাসন থেকে অনুমতিও ছিলো,তথাপি সারাদেশের মত সরকার বিরোধী দল মতকে নিয়ন্ত্রন করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গনতান্ত্রিক কর্মসূচী পালনে বাধা দিচ্ছে,যা খারাপ বার্তা দিচ্ছে। এর আগে কাপ্তাইতে একই কাজ করেছে। এর মাধ্যমে সরকার তার স্বৈরাচারি চেহারা আবারো জনগণের সামনে উম্মোচন করেছে।’ লংগদুর কর্মসূচীতে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার,সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত থাকার কথা ছিলো বলে জানিয়েছেন তিনি।
লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জ্বল হোসেন জানিয়েছেন, আমরা প্রশাসনকে ছয়টি ইউনিয়নে কর্মসূচী পালন করতে প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে অনুমতি নিয়েছি। পাঁচটি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা কর্মসূচী পালন করেছি,সোমবার মাইনী বাজারে কর্মসূচীর মাধ্যমে শেষ হতো আমাদের কর্মসূচী। কিন্তু রবিবার আওয়ামীলীগ পরিস্থিতি উস্কানি দিয়ে মিছিল করে আমাদের মাইনীবাজারের সমাবেশস্থলে কর্মসূচী ঘোষনা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। তাই প্রশাসন বাধ্য হয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। রাতে ইউএনও,পুলিশ আমাকে ফোন করে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আমরা প্রশাসনের এই নির্দেশনা অবশ্যই মানব। তবে আওয়ামীগ যা করেছে ভালো করেনি। তারা বিএনপির জনপ্রিয়তা দেখে ভয়ে এসব করছে।’
লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু জানিয়েছেন, বিএনপি সারাদেশের মতো লংগদুতেও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম ও অরাজকতা করার সুযোগ নিতে চাইছে। এছাড়া তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছে। তাই এরই প্রতিবাদে রবিবার বিকালে মাইনী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সোমবার কর্মসূচী ঘোষণা করেছি। এখন যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে সেহেতু আমরা কর্মসূচী পালন থেকে বিরত থাকব।’
প্রসঙ্গত, এর আগে রবিবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বিএনপির সমাবেশস্থলে ছাত্রলীগের কর্মসূচী ঘোষণা করায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। সেখানে তাই কোন দলই কর্মসূচী পালন করতে পারেনি। বাঘাইছড়ি উপজেলাতেও ছাত্রলীগের হামলায় পন্ড হয়ে যায় বিএনপির কর্মসূচী।
