জয়নাল আবেদীন, কাউখালী ॥
অবশেষে দীর্ঘ সাত বছর পর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কাউখালী উপজেলা বিএনপি’র। আহ্বায়ক কমিটি গঠন, সে কমিটি বাতিল, আবার নতুন আহ্বয়ক কমিটি গঠন, নতুন কমিটি নির্বাচনের তফশীল দিতে তালবাহানা। অবশেষে দীর্ঘ নাটকিয়তার পর ঘোষণা করা হয়েছে উপজেলা বিএনপি’র ত্রি বার্ষিক সম্মেলনের তারিখ। এতেই সরগরম হয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মাঠে, ঘাটে, চায়ের দোকানে নির্বাচনকে ঘিরে চলছে আলোচনা।
আহ্বায়ক কমিটির নির্বাচনের তফশীল অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। এরই মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোয়ন ফরম বিক্রয়, জমা ও যাচাই বাছাই ও মনোয়ন প্রত্যহার কার্যক্রম শেষে চুড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
সভাপতি পদে ২ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন ও সাংগঠনিক পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এ নির্বাচনে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোর, দুপুর, সন্ধ্যা কিংবা মধ্য রাত সময় যেটাই হোক, উপজেলা বিএনপি’র পূর্বের কমিটির ৫৯ জন ভোটারদের ঘরে ঘরে ছুটে চলেছেন। কখনো প্রার্থী নিজে, আবার কখনো প্রার্থীর পক্ষে ২/৩টি গ্রুপ ধাপে ধাপে ভোটের জন্য ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও বেশ সরগরম। পছন্দের প্রার্থীর জন্য স্ট্যাটাস দিয়ে দোয়াও চাচ্ছেন অনেকে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশ্য তবুও যেনো গোপন। এমনভাবে তৈরি হয়েছে ২টি প্যানেল। এভাবেই চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।
অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মনে করছেন নেতা নির্বাচনে এবার ভুল করলে বিএনপি’র উপজেলা ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। ২০২৩ সালকে মাথায় নিয়েই নেতা নির্বাচন করতে হবে ভোটারদের। একটু এদিক সেদিক হলে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়বে কাউখালী উপজেলা বিএনপি।
উপজেলা বিএনপি’ সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম নির্বাচনকে ঘিরে তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন ‘আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ উপজেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এবারের কাউন্সিল দুই ধারায় বিভক্ত। মূল বিএনপি ¯্রােত ধারা ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত ¯্রােত ধারা। আপনার বিবেককে প্রশ্ন করে দালালমুক্ত একটি কমিটি করার সুযোগ গ্রহণ করুন। যে প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী ব্যক্তিবর্গ ভোট চাইবে মনে করবেন তারাই দালাল বা আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী। আর সেই প্রার্থীকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করুন।’
তার এই স্ট্যাটাসের সমর্থন জানিয়ে বিএনপি সমর্থিত মো. শহিদুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন “ভাই আপনাকে ধন্যবাদ, আজকের লেখাটা ভালো লাগছে।” একই পোস্টে ছাত্রদলকর্মী মো. নিজাম উদ্দিন রাজু নামে একজন লিখেছেন, “এই নির্বাচন হলো দল থেকে আওয়ামী এজেন্ট বিতারিত করার নির্বাচন। যদি কাউন্সিলররা তা না করতে না পারে তবে বুঝে নিতে হবে বিএনপি’র ভবিষ্যৎ অন্ধকার। দলের ভিতর কারা সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তা ওপেন সিক্রেট। এখন সুধু সময়ের অপেক্ষা। বিগত ১২/১৪ বছরে কারা সমগ্র নির্যাতনের শিকার, আর কারা বহাল-তবিওতে থেকে ব্যবসা বানিজ্য ইত্যাদি করে নিজের পকেট ভারি করেছে তা সবার জানা।”
একই পোস্টে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ আলম মন্তব্য করেন- “আমি বিশ্বাস করি আমার উপজেলার নির্যাতিত-নিপীড়িত অত্যাচারিত নেতৃবৃন্দ যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।” মো. বাদশা আলম বাদশা নামের যুবদলের একজন লিখেন- “আগামী ৩০/০৯/২০০ উপজেলা বিএনপি’র কাউন্সিল। উপজেলা বিএনপি’র সকল নির্যাতিত নিপীড়িত সম্মানিত সচেতন কাউন্সিলরগণ অবশ্যই অসংখ্য হামলা মামলার শিকার হওয়া কারানির্যাতিত নেতাদের হাতে আগামীদিনের উপজেলা বিএনপি’র নেতৃত্ব তুলে দিবেন। ইনশাআল্লাহ এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।” এছাড়াও এই পোস্টে অনেকে সহমত জানান এবং দালাল মুক্ত কাউখালী উপজেলা বিএনপি চাই বলে মন্তব্যও করেন।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কলমপতি ইউনিয়নের ডাব্যুনিয়া এলাকার বাসিন্দা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ মনছুর ও দলটির উপজেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য, সাবেক যুবদলনেতা একই ইউনিয়নের নাইল্যাছড়ি এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম।
সধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি, বেতবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কাশেম ও ঘাগড়া ইউনিয়নের কাশখালী এলাকার বাসিন্দা, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর মোতালেব (মেম্বার)।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি তারা মিয়া, সাবেক তাঁতিদল কর্মী মো: মোতালেব ও ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য মো. কামাল উদ্দিন।
