সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমার দেয়া বক্তব্যকে অসাংবিধানিক, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিশেষ মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ দাবি করে বাসন্তী চাকমাকে জাতীয় সংসদ সদস্য পদ থেকে অপসারণসহ আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সাড়ে ১১ দিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
‘সচেতন মাটিরাঙ্গাবাসী’র ব্যানারে অনুষ্টিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘বাসন্তী চাকমা পাহাড়ের বিষফোঁড়া। শান্তির জনপদ পার্বত্য চট্টগ্রামকে নতুন করে অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। মহান জাতীয় সংসদে দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবিহনীকে হত্যাকারী ও বাঙালিদের বহিরাগত বলে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসাবে থাকার অধিকার হারিয়েছেন।’
মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন লিটন, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জি. মো. আবদুল মজিদ, সলেন চাকমা, মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব মাও. মো. হারুনুর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বাসন্তী চাকমা আওয়ামী লীগের ‘ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন’ করেছে উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক বাসন্তী চাকমাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবী জানান। তিনি বলেন, বাসন্তী চাকমা ক্ষমা না চাইলে পাহাড়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হবে।’
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসন্তী চাকমার কুশপুত্তলিকা দাহ করে উল্লাস করে। এ সময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হয়ে উঠে মাটিরাঙ্গার জনপদ।
প্রসঙ্গত, গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি মহান জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বক্তব্য প্রদানকালে শান্তিবাহিনীকে নিজের ভাই উল্লেখ করে সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের বহিরাগত উল্লেখ করে সংসদে বক্তব্য প্রদান করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা।
