নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বা ঘরে থাকার বিকল্প নাই। প্রশাসন পুলিশ সেনাবাহিনীসহ সবাই প্রচার প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টাই করছেন। প্রশাসনের কর্মীরা প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাট বাজারে পরিদর্শনে যাচ্ছেন। পশাপাশি মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে নিয়মিত। তবুও লংগদু উপজেলার পাহাড়ি জনপদের মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। সেনাবাহিনী বা প্রশাসনের টহলের সময়টুকু ঘরে থাকলেও পরক্ষনেই নেমে আসছেন রাস্তায়, বাজারে ও দোকানপাটে। বিশেষ করে সন্ধ্যা হলেই গ্রামের মানুষজন এলাকার দোকানপাটে বসে আগের মতোই আড্ডায় মেতে ওঠে।
সাধারণ মানুষকে সচেতন করার সকল চেষ্টাই যেন ব্যর্থ হচ্ছে। এমন অবস্থা দেখে হতাশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাইনুল আবেদীন তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে হতাশার কথা ব্যক্ত করে লিখেছেন, ‘আমি দুঃখিত, আমি লজ্জিত। দিনরাত আমাদের সকলের প্রাণান্তকর পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাচ্ছে, পরিবার বিচ্ছিন্ন থেকে আমাদের যে ত্যাগ সেটিও বিফলে যাচ্ছে। কারণ এখনো অনেকেই বাড়ির বাইরে ঘুরাঘুরি করছেন শত অনুরোধ উপেক্ষা করে।
লংগদু উপজেলার সবাইকে অনুরোধ, প্রশাসন বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। আপনারা বাড়ির ভিতরে থেকে আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন’ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন হতাশাজনক স্টাটাসে অনেকেই মন্তব্য করে স্ব স্ব এলাকার অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন।
‘মামুন লংগদু’ নামের আইডি থেকে লিখেছেন, ‘স্যার আমাদের ভাইট্টাপাড়া বাজরেও একই অবস্থা। এদেরকে কঠিনভাবে দমন করতে হবে।’ পুলিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
‘এমডি আলমাস আলী খান’ লিখেছেন, ‘গুলশাখালী ইউনিয়নের চৌমহনী বাজারের একই অবস্থা, পুলিশ তো আসেই না। মাঝে মধ্যে আসলে তিন চার মিনিটের বেশি থাকে না। স্যার আপনার সহায্য কামনা করছি।’ তবে মানুষকে ঘওে রাখতে এবং নিরাপদে রাখতে জরুরী অবস্থা বা কারফিউ দেয়ার আহবান করেন বেশিরভাগ মন্তব্যকারী।
এছাড়াও উপজেলার কালাপাকুজ্যা, গুলশাখালী, আটারকছড়া ও ভাসান্যাদমের স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, সন্ধ্যা হলেই লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসে। আড্ডা দেয় গল্পগুজব করে সময় কাটায়। এসময় কেউ কেউ মুখে মাস্ক পড়লেও বেশিরভাগ মানুষ মাস্কও ব্যবহার করে না।
করল্যছড়ি বাজারের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন টুটুল জানান,‘ কিছু মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে বেশিরভাগ মানুষই বাইওে বের হচ্ছে না। তবে যারা বাইওে বেশি ঘুরছে তারা ঘরের মানুষদেরকেও বিপদে ফেলছে।’ ভাসান্যাদম ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকার স্বাস্থ্যকর্মী মো. ওয়াসিম জানান, ‘সাধারণ মানুষকে সহজে বোঝানো যাচ্ছে না। তারা সুযোগ পেলেই বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে দিন দিন মানুষ সচেতন হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাইনুল আবেদীন জানান, সাধারণ মানুষকে নিরাপদে রাখতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করছি। তারপরও মানুষ বাইরে ঘোরাঘুরি করলে ঝুঁকি বেড়ে যাবে। প্রশাসন, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী সবাই তৎপর। এখন সাধারণ মানুষের সহযোগিতা লাগবে।
